নেশাকারবারীদের লেনদেন নিয়ে সংঘর্ষ দু’জন রক্তাক্ত, উত্তপ্ত সোনামুড়া সীমান্ত

murderনিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ জানুয়ারি৷৷ সোনামুড়ার রবীন্দ্র নগর সীমান্ত এলাকায় শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ নেশাকারবারীদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে হামলা পাল্টা হামলায় দু’জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছে৷ আহতদের মধ্যে একজনকে জি বি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে৷ তার নাম রুহুল আমিন৷ আহত অপর ব্যাক্তি মাইনউদ্দিনকে সোনামুড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ ঘটনায় জড়িত অপর এক যুবক উত্তেজিত জনতার তাড়া খেয়ে পালিয়ে গেছে৷ তার নাম সুমন মিঞা৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে৷ এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে৷
ঘটনার সূত্রপাত নেশা কারবারকে কেন্দ্র করে৷ সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, ভোগজোর এলাকার বাবুল মিঞার দোকানের কাছে মাইনউদ্দিন নামে ঐ সমাজদ্রোহী রুহুল আমিনকে কিরিচ দিয়ে মারাত্মকভাবে আঘাত করে৷ তাতে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে রুহুল আমিন৷ এই ঘটনায় সুমন মিঞাও জড়িত রয়েছে৷ মাইনউদ্দিনকে সুমন মিঞাও সহযোগিতা করে৷ ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়৷ উত্তেজিত জনতা আক্রমণকারীদের পাকড়াও করার চেষ্টা করেন৷ মূল অভিযুক্ত মাইনউদ্দিনকে পাকড়াও করা সম্ভব হলেও অপর অভিযুক্ত সুমন মিঞা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়৷ উত্তেজিত জনতার প্রহারে এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাইনউদ্দিনও আহত হয়৷ ঘটনার খবর পেয়ে সোনামুড়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়৷ আহত দু’জনকেই উদ্ধার করে সোনামুড়া হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ৷ আহতদের মধ্যে রুহুল আমিনের অবস্থা সঙ্কটজনক হওয়ায় জিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়৷ রাতে জি বি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার অবস্থা খুবই সঙ্কটজনক৷ অপরদিকে, মাইনউদ্দিনকে সোনামুড়া হাসপাতালে পুলিশের নজরদারীতে রাখা হয়েছে৷ মাইনউদ্দিন এবং সুমন মিঞার বিরুদ্ধে সোনামুড়া থানায় মামলা গৃহীত হয়েছে৷ অভিযুক্ত সোনার ত্রিপুরা আটক করার জন্য পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে৷ আশঙ্কা করা হচ্ছে সে সীমান্ত ডিঙ্গিয়ে বাংলাদেশে আত্মগোপন করেছে৷ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেশা সামগ্রী পাচারকে কেন্দ্র করে মাইনউদ্দিন ও রুহুল আমিনের মধ্যে বিবাদ বেঁধেছিল৷ তাদের মধ্যে আর্থিক বিষয় নিয়েও বিবাদ চরম আকার ধারণ করেছিল৷ এরই পরিণতি ঘটে শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ৷ সোনামুড়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, পাচার বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে এধরনের হিংসাত্মক ঘটনা মোকাবেলায় কঠোর মনোভাব করবে৷ এদিকে, স্থানীয় মানুষের অভিযোগ পুলিশ ও বিএসএফ’র যোগসাজশেই সোনামুড়া সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত নেশা সামগ্রী সহ অন্যান্য সামগ্রী বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে৷ সোনামুড়ার উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক সীমান্তকে নেশাকারবারী সহ অপরাধ চক্র করিডোর হিসেবে গণ্য করে এসব কাজকর্ম দীর্ঘদিন ধরেই চালিয়ে যাচ্ছে৷ প্রশাসন এব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো চরম অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *