নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৩ মে৷৷ করোনা সংক্রমণে এই মুহূর্তে রাজধানী জুবুথুবু৷ সংক্রমন প্রতিরোধে নেওয়া হচ্ছে একের পর এক পদক্ষেপ৷ আগামীকাল থেকেই আগরতলা পুর নিগম এলাকায় শুরু হচ্ছে বাড়ী বাড়ী সমীক্ষার কাজ৷ পুর নিগম এলাকার ওয়ার্ড ভিত্তিক বাড়ী বাড়ী যাবে স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরা৷ আশাকর্মী এবং এ. এন. এম পৌঁছাবেন আপনার বাড়ী৷ জানতে চাইবেন কিছু গুরুত্ব পূর্ণ তথ্য৷ যেগুলি থেকে স্বাস্থ্যকর্মীরা অনায়াসে বুঝে যাবে যে আপনি করোনাই আক্রান্ত কিনা৷
যদি লক্ষন থাকে সেক্ষেত্রে আপনাকে পাঠানো হবে করোনা পরীক্ষার জন্য৷ এই সার্ভে টিমের সংগে থাকবে করোনা পরীক্ষার টিম ও৷ তাই জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, পশ্চিম ত্রিপুরা পুর নিগম বাসীদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, এই সমীক্ষার কাজে স্বাস্থ্য দপ্তরকে সহয়তা করার জন্য৷ প্রসঙ্গত, করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলিতে আগের মতই ভ্যাকসিনেশন চলছে৷ তাই যারা এখনও নেননি তারা নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে৷
প্রসঙ্গত, কোভিড সংক্রমণের হার বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগরতলা পুর নিগম এলাকার সমস্ত বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীগণ অ্যান্টিজেন টেস্ট করবেন৷ আজ কমলপুর দ্বাদশ শ্রেণী বালক বিদ্যালয়ের বিদ্যাসাগর ছাত্রাবাসের কোভিড কেয়ার সেন্টার পরিদর্শন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রী আজ ধলাই জেলার কমলপুরের কমলপুর দ্বাদশ শ্রেণী বালক বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে কোভিড কেয়ার সেন্টার পরিদর্শন করেন৷ এই কোভিড কেয়ার সেন্টারে ৭৫টি শয্যা রয়েছে৷ এরমধ্যে মহিলাদের জন্য ২৮টি শয্যা রয়েছে৷ ভেন্টিলেটর রয়েছে ২টি ও অক্সিযুক্ত শয্যা রয়েছে ২২টি৷ মুখ্যমন্ত্রী কোভিড কেয়ার সেন্টারের প্রতিটি ঘর পরিদর্শন করেন৷
কোভিড কেয়ার সেন্টার পরিদর্শন শেষে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব সাংবাদিকদের জানান, ধলাই জেলার কমলপুরে গতবছর কোভিড সংক্রমণের সময় এই সেন্টার ও পরিষেবা কিছুই ছিলনা৷ কোভিড সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে সরকার স্বাস্থ্য পরিষেবার বিকেন্দ্রীকরণের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার ফলস্বরূপই কমলপুর মহকুমায় এই কোভিড কেয়ার সেন্টারটি গড়ে তোলা হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী শ্রীদেব আরও বলেন, আজ থেকে রাজ্যে ১৮ বছর থেকে ৪৪ বছর বয়সের নাগরিকদের কোভিড ভ্যাকসিনেশন শুরু হয়েছে৷ সরকার কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে৷ আগরতলা পুর নিগম এলাকায় আগামী ৩ দিন প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীগণ অ্যান্টিজেন টেস্ট করবেন৷
এই কাজে স্বাস্থ্যকর্মীদের সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন৷ মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান আগরতলা পুর নিগম এলাকার ৩টি ওয়ার্ডকে কন্টেইনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে৷ কন্টেইনমেন্ট জোনের দরিদ্র পরিবারগুলির কথা বিবেচনা করে চাল, ডাল সহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও খাবারের প্যাকেট দেওয়া হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী শ্রীদেব কোভিড টিকা নেওয়ার পাশাপাশি কোভিড আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান৷ কোভিড কেয়ার সেন্টার পরিদর্শনকালে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে ছিলেন প্রধান সচিব জে কে সিনহা, জেলাশাসক গোবেকর ময়ূর রতিলাল, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রমুখ৷

