আগরতলা, ২ মার্চ (হি. স.)৷৷ ত্রিপুরায় উপজাতি এলাকা স্ব-শাসিত জেলা পরিষদ(টি টি এ এ ডি সি) নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণা হয়েছে৷ ৪ এপ্রিল এডিসি-তে ভোট হবে৷ গণনা হবে ৮ এপ্রিল৷ আজ বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা দিলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার এম এল দে৷ তাঁর কথায়, এডিসি-তে ২৮ টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে৷ তাতে, ২৫ টি আসন জনজাতি সংরক্ষিত এবং বাকি তিনটি সাধারণ আসন রয়েছে৷ সাথে তিনি যোগ করেন, এডিসি নির্বাচনে মোট ভোটার রয়েছেন ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার ৪১ জন৷ তার মধ্যে পুরুষ ৪ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫৪৮ জন এবং মহিলা ভোটার ৪ লক্ষ ২৮ হাজার ৪৯০ জন রয়েছেন৷ তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন তিন জন৷ তিনি জানান, এডিসি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহৃত হবে৷ তবে, ভিভিপ্যাট ব্যবহারের কোন আইন নেই৷
এদিন তিনি জানান, ২০২০ সালের ১৭ মে এডিসি-র মেয়াদ সমাপ্ত হয়েছে৷ কিন্ত, করোনা-র প্রকোপের কারণে প্রস্তুত থাকা সত্বেও নির্বাচন করা সম্ভব ছিল না৷ তাই, রাজ্যপাল এডিসি-র দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং প্রশাসন পরিচালনায় প্রশাসক-র নিযুক্তি দেন৷ তিনি বলেন, বর্তমানে ত্রিপুরায় পরিবেশ নির্বাচনের অনুকুল হয়েছে৷ তাই, নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন৷ তাঁর কথায়, এডিসি-তে ২৮ টি আসনে ২৫ টি রয়েছে জনজাতি সংরক্ষিত এবং ৩ টি আসন সাধারণ শ্রেণীভুক্ত৷ তাঁর দাবি, মাছমারা, দশদা-কাঞ্চনপুর এবং মনু-ছৈলেংটা ওই তিনটি আসন সাধারণ শ্রেণীভুক্ত৷
তিনি বলেন, ত্রিপুরায় প্রায় সমস্ত মহকুমায় এডিসি এলাকা রয়েছে৷ শুধু মাত্র সদর মহকুমা কোন এডিসি এলাকা নেই৷ তিনি বলেন, ইতিমধ্যে সমস্ত জেলাশাসকের সাথে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক হয়েছে৷ সমস্ত জেলাশাসক-দের জেলা নির্বাচন আধিকারিক হিসেবে নিযুক্তি দেওয়া হয়েছে৷ তাঁরা কমিশনের নির্দেশাবলী পালন করবেন এবং রিটার্নিং অফিসার-দের সঠিকভাবে কাজে সহায়তা দেবেন৷ তাঁর কথায়, ত্রিপুরায় ১৬ টি মহকুমায় এডিসি-র বিরাট এলাকা রয়েছে৷ তাই, ওই ১৬ জন মহকুমা শাসক-কে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে৷ বাকি ৭ জন মহকুমা শাসক রিটার্নিং অফিসার-দের সহায়তা করবেন৷
এদিকে, কমিশন পুলিশ সেক্টর ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করবে বলে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, এডিসি নির্বাচন-কে ঘিরে ২৭৪ জন পুলিশ সেক্টর ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করা হবে৷ তাদের মধ্যে ২১০ জন নির্দিষ্ট ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন৷
রাজ্য নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, এডিসি নির্বাচনে ১০৬০ টি স্থানে ১২৪৪ টি ভোট গ্রহণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে৷ এছাড়া, ওই নির্বাচনে ১৭ জন অবসার্ভার নিযুক্ত করা হবে৷ এদিন তিনি জানিয়েছেন, গত বছরই ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছিল৷ কিন্ত, নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় নতুন করে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে৷ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে৷ তিনি জানান, এডিসি নির্বাচনে ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার ৪১ জন ভোটার রয়েছেন৷ তাদের পুরুষ ৪ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫৪৮ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছেন ৪ লক্ষ ২৮ হাজার ৪৯০ জন৷ এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন৷
এদিকে, গণনার জন্য মহকুমা মুখ্য কার্যালয়গুলি-কে নির্দিষ্ট করা হয়েছে৷ এক্ষেত্রে ১৬ টি মহকুমা মুখ্য কার্যালয়ে গণনা হবে৷ রাজ্য নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, এডিসি নির্বাচন ইভিএম-এ সম্পন্ন হবে৷তার জন্য প্রয়োজনীয় ইভিএম-র ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, ভোট কর্মী-দের ইভিএম-র মহড়া এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে৷
তাঁর কথায়, করোনা পরিস্থিতি-তে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে৷ প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল এবং ভোটার-দের সেই নির্দেশিকা পালন করতে হবে৷ তিনি জানান, নির্বাচনী জমায়াতের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে৷ কোভিড নির্দেশিকা মেনেই নির্বাচনী জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হবে৷ এক্ষেত্রে প্রশাসনিক আধিকারিক-রা সব দিকে নজর রাখবেন৷ তিনি জানান, ইভিএম পরীক্ষা, ইভিএম ব্যবহার, মনোনয়ন জমা দেওয়া, স্ক্রুটিনি, মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার এবং ভোটের গণনা-য় ভিডিওগ্রাফী করা হবে৷
আজ তিনি জানিয়েছেন, ৪ মার্চ ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হবে৷ রিটার্নিং অফিসার-রা নিজ নিজ স্থানে বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে মনোনয়ন পত্র জমা নেওয়ার আহবান করবেন৷ মনোনয়ন জমা দেওয়ার অন্তিম তারিখ ১২ মার্চ৷ ১৫ মার্চ স্ক্রুটিনি করা হবে৷ ১৭ মার্চ মনোনয়ন প্রত্যাহারের অন্তিম তারিখ৷ তিনি জানান, এডিসি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ এপ্রিল৷ সকাল ৭ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে৷ প্রয়োজনে পুন: ভোটের জন্য ৭ এপ্রিল স্থির করা হয়েছে৷ ৮ এপ্রিল গণনা সম্পন্ন হবে৷ তিনি বলেন, ১৩ এপ্রিল-র মধ্যে সমস্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়া সমাপ্ত করতে হবে৷ এদিন তিনি জানান, আজ নির্বাচন ঘোষণার সাথে এডিসি এলাকায় আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হয়ে যাবে৷ ফলে, আসন্ন বাজেট অধিবেশনে বাজেট ভাষণে এডিসি এলাকা-র জন্য কোন ঘোষণা রাখা যাবে না৷ তেমনি, রাজ্যপাল-র ভাষণেও উন্নয়নমূলক কাজকর্মের ফিরিস্তি থাকতে পারবে না৷
এম এল দে জানিয়েছেন, নির্বাচনে প্রার্থী-দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হবে৷ কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী-র আবেদন জানানো হয়েছে৷ তবে, অন্য রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য কি পরিমানে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক মিলবে তা এখনই অনুমান করা যাচ্ছে না৷ তবে, ত্রিপুরার আরক্ষা দফতর নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপুর্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন৷



















