আগরতলা, ২৪ নভেম্বর (হি.স.)৷৷ ত্রিপুরা সরকারের সাথে আলোচনায় সন্তুষ্ট জয়েন্ট মুভিমেন্ট কমিটি৷ বনধ প্রত্যাহার করেই আজ মঙ্গলবার তাঁরা আগরতলায় সচিবালয়ে মুখ্যমন্ত্রী সহ উপ-মুখ্যমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রীর সাথে দেখা করেছেন৷ এদিন উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মা এবং আইনমন্ত্রী রতনলাল নাথ ও কৃষিমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায়ের সাথে তাঁরা দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন৷ ব্রু শরণার্থী পুনর্বাসন নিয়ে এখন তাঁদের কোন আপত্তি নেই৷ কারণ, ত্রিপুরা সরকার তাঁদের সাথে আলোচনা ছাড়া পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে৷
আজকের বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জেএমসি-র প্রতিনিধিরা৷ এর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেএমসি-র আহ্বায়ক সুশান্ত বড়ুয়া বলেন, ত্রিপুরা সরকারের সাথে আলোচনায় আমরা সন্তুষ্ট৷ তবে পানিসাগরে জাতীয় সড়ক অবরোধ চলাকালীন সংঘর্ষে দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছি৷ তিনি বলেন, ব্রু শরণার্থী পুনর্বাসন নিয়ে ত্রিপুরা সরকার আশ্বাস দিয়েছে, সকলের সম্মতি ছাড়া ওই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে না৷
তিনি বলেন, ব্রু ইস্যুতে সংগঠিত আন্দোলনকে অযথা সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়া হচ্ছে৷ ওই আন্দোলন কোনওভাবেই নির্দিষ্ট জাতি বা ধর্মের বিরুদ্ধে নয়৷ কারণ, ব্রু-দের পুনর্বাসন হোক, আমরাও চাইছি৷ তবে আমাদের কিছু শর্ত রাজ্য সরকার মেনে নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে৷ এদিন তিনি পানিসাগরে বনধ চলাকালীন সংঘর্ষে নিহত শ্রীকান্ত দাস এবং ফায়ারম্যান বিশ্বজিৎ দেববর্মার পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং শ্রীকান্তের পরিবারে একটি সরকারি চাকরি দেওয়ার দাবি সরকারের কাছে পেশ করেছেন বলে জানিয়েছেন৷
ব্রু শরণার্থী পুনর্বাসনে আপত্তিকে ঘিরে কাঞ্চনপুর মহকুমা বনধ প্রত্যাহার করেছে জয়েন্ট মুভমেন্ট কমিটি (জেএমসি)৷ নবম দিনের মাথায় বনধ প্রত্যাহৃত হয়েছে৷ কাঞ্চনপুর মহকুমাবাসীর সার্বিক সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেএমসি-র সদস্য তথা নাগরিক সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি রঞ্জিত নাথ৷
তিনি বলেন, ত্রিপুরা সরকারের সাথে ব্রু শরণার্থী পুনর্বাসনে আমাদের আপত্তি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে৷ ত্রিপুরা সরকার আমাদের দাবি বিবেচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে৷ শুধু তা-ই নিয়ে, প্রশাসনের শীর্ষ কর্তা এবং মন্ত্রিসভার সদস্যের সাথে এ-বিষয়ে চূড়ান্ত বৈঠক হবে৷ তাই, বনধ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা৷ সাথে তিনি যোগ করেন, গত আট দিনে কাঞ্চনপুর মহকুমাবাসী নানাভাবে অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন৷ আর্থিক দিক দিয়ে তাঁদের ক্ষতি হয়েছে৷ এ-সমস্ত বিষয় বিবেচনায় রেখেই বনধ প্রত্যাহার করা উচিত বলে আমরা মনে করেছি৷
এদিকে, ত্রিপুরা জাতি-জনজাতির মিলনস্থল৷ ব্যক্তিস্বার্থে ষড়যন্ত্র হচ্ছে৷ কাঞ্চনপুরে অনির্দিষ্টকালের বনধ সম্পর্কে এভাবেই উষ্মা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ তাঁর সাফ কথা, সকলের সহমতের ভিত্তিতেই বাস্তুচ্যুত ব্রু অভিবাসীদের পুনর্বাসন হবে৷ তাই, গুজবে কান দেবেন না, সতর্ক করলেন তিনি৷
প্রসঙ্গত, ত্রিপুরায় ব্রু শরণার্থীদের পুনর্বাসনের বিরোধিতা করে কাঞ্চনপুরে অনির্দিষ্টকালের বনধ পালিত হয়েছে৷ দাবি আদায়ে জয়েন্ট মুভমেন্ট কমিটি টানা ৯ দিন বনধ পালন করার পর আজ প্রত্যাহার করেছে৷ তাঁদের জাতীয় সড়ক অবরোধে সংঘটিত সংঘর্ষে দুজন প্রাণ হারিয়েছেন৷ তাতে পরিস্থিতি ভীষণ জটিল রূপ নিয়েছে৷
মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, ত্রিপুরা জাতি-জনজাতির মিলনস্থল৷ কোনওভাবেই এখানে বিভেদ সৃষ্টি হতে দেওয়া যাবে না৷ তাঁর কথায়, জাতি-জনজাতির বিভেদের কারণে অতীতে এ-রাজ্যের অনেক লোকসান হয়েছে৷ নতুন করে লোকসান হোক, চাইছি না৷ তাঁর সাফ কথা, ত্রিপুরায় এখন ব্যক্তিস্বার্থে ষড়যন্ত্র হচ্ছে৷ ওই ষড়যন্ত্র থেকে ত্রিপুরাকে বাঁচাতে হবে৷
তাঁর দাবি, জয়েন্ট মুভমেন্ট কমিটি, ব্রু অভিবাসী এবং সাধারণ নাগরিক, সকলে মিলে সমৃদ্ধ ত্রিপুরা গড়ব৷ তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুত ব্রু অভিবাসীদের পুনর্বাসন সকলের সহমতের ভিত্তিতেই হবে৷ দুই পক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে৷ তাঁর বক্তব্য, ব্রু-দের পুনর্বাসন নিয়ে ত্রিপুরায় অপপ্রচার চালানো হচ্ছে৷ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে৷ তাঁর সাফ কথা, ব্রু-দের শুধু কাঞ্চনপুরে নয়, ত্রিপুরার ছয়টি জেলায় বিভিন্ন স্থানে পুনর্বাসন দেওয়া হবে৷ তাই, গুজবে কান দেবেন না, ত্রিপুরাবাসীর উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়ে বলেন তিনি৷