করোনার প্রকোপেও আগরতলা আইসিপি দিয়ে পণ্য আমদানি স্বাভাবিক ছিল, কমেছে যাত্রী আসা-যাওয়া

আগরতলা, ৬ নভেম্বর (হি. স.)৷৷ করোনা-র প্রকোপ মোকাবিলায় দেশজুড়ে লকডাউন প্রভাব ফেলেছে সর্বত্রই৷ বহু প্রাণ রক্ষা করা গেছে ঠিকই, কিন্তু বাণিজ্যে প্রভাব কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগবেই৷ তবে, করোনা মহামারীর মাঝেও স্বাস্থ্যকর্মী, আরক্ষা কর্মী-র পাশাপাশি প্রশাসনিক আধিকারিক-রাও কর্তব্যে অবিচল ছিলেন৷ তার প্রমান মিলেছে আগরতলা ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট দিয়ে বাণিজ্যিক আদান-প্রদানে৷ লকডাউন-র পূর্বে এবং পরে বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যে তেমন কোন প্রভাব পড়েনি৷ কারণ, সামান্য ঘাটতি রেখে বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় পণ্যের আমদানি-র পরিমান প্রায় কাছাকাছিই ছিল৷ শুধু, যাত্রী আসা-যাওয়ায় অনেকটা ফারাক দেখা যাচ্ছে৷


ল্যান্ড পোর্ট অথরিটির ম্যানেজার দেবাশীষ নন্দী জানিয়েছেন, করোনা মহামারীর মাঝেও ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট দিয়ে বাণিজ্যিক আদান-প্রদানে কোন ব্যাঘাত ঘটতে দেওয়া হয়নি৷ তাই, বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে৷ তিনি জানান, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় ৫৮৫.৫৪ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য আমদানি হয়েছে৷ তেমনি, ০.৩৭৪ কোটি টাকার পণ্য ত্রিপুরা থেকে রফতানি হয়েছে৷ তাঁর কথায়, গত অর্থ বছরে ১৩৩৬৬টি গাড়িতে বাংলাদেশ থেকে পণ্য এসেছে৷ সেই তুলনায় ৫টি গাড়িতে বাংলাদেশে পণ্য রফতানি হয়েছে৷ সাথে যোগ করেন, বাংলাদেশ থেকে ১ লক্ষ ৭২ হাজার ৭৩৮ জন ত্রিপুরায় এসেছেন এবং ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪১৫ জন ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে গিয়েছেন৷


একইভাবে লকডাউন চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের সাথে আগরতলা ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট দিয়ে বাণিজ্যিক আদান-প্রদান এবং যাত্রীদের আসা-যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন তিনি৷ দেবাশীষবাবু বলেন, গত ২৪ মার্চ থেকে ৩১ অক্টোবর করোনা-র প্রকোপে লকডাউন-এ আইসিপি দিয়ে পণ্য আমদানি রফতানি বন্ধ ছিল৷ তেমনি কোন যাত্রী বাংলাদেশ থেকে আসতে পারেননি৷ কিন্তু, ত্রিপুরায় অবস্থানরত বাংলাদেশী নাগরিক দেশে ফিরে গিয়েছেন৷ ওই সময়ে ১৫৫ জন যাত্রী বাংলাদেশে ফিরে গেছেন৷ তাঁর কথায়, এপ্রিল থেকে পণ্য আমদানি শুরু হয়েছে ঠিকই৷ কিন্তু, বাংলাদেশে এপ্রিল ও মে দুই মাস ত্রিপুরা থেকে পণ্য রফতানি বন্ধ ছিল৷ এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ থেকেও কোন যাত্রী ত্রিপুরায় আসতে পারেননি৷ কারণ, সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিধিনিষেদের কারণে বাংলাদেশে অবস্থানরত ত্রিপুরার নাগরিক দেশে ফিরতে পারেননি৷ তবে, বাংলাদেশী নাগরিক-রা প্রতিনিয়ত দেশে ফিরে গেছেন৷
আইসিপিই-র রিপোর্ট অনুযায়ী এপ্রিল থেকে ত্রিপুরায় বাংলাদেশের পণ্য আমদানি শুরু হলেও শুধু জুন ও জুলাই মাসে ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে পণ্য রফতানি হয়েছে৷ তাতে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থ বছরে অক্টোবর পর্যন্ত আগরতলা আইসিপি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় ২৩৬.৮১ কোটি টাকার পণ্য আমদানি এবং ০.৯৩ কোটি টাকার পণ্য রফতানি হয়েছে৷ তেমনি, ১১৪৫ জন বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় এসেছেন এবং ২০৩২ জন ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশ গিয়েছেন৷


দেবাশীষ বাবু জানিয়েছেন, করোনা মহামারীর মাঝে আইসিপি-তে পরিষেবা চালু রাখতে গিয়ে প্রচুর কর্মী এবং বিএসএফ ও কাস্টমস-র আধিকারিক-রা সংক্রমিত হয়েছেন৷ তবে, স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার সবরকম ব্যবস্থা করা হয়েছিল৷ আইসিপি-তে স্যানিটাইজ করা, কর্তব্যরত সীমান্তরক্ষি বাহিনী-র জওয়ানদের পিপিই কিট প্রদান, স্যানিটাইজার, মাস্ক বিলি করা, সবই নিয়ম মেনে পালন করা হয়েছে৷ তাঁর দাবি, বাংলাদেশ থেকে আসা পণ্যবাহী গাড়িগুলি স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা হয়েছে৷ কারণ, পণ্যবাহী গাড়ি-র মাধ্যমে করোনা-র সংক্রমণ ছড়াতে পারে, সেই আশঙ্কা থেকে সমস্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা করা হয়েছে৷