News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • এনডিএ সরকারই কৃষকদের কথা ভেবেছে, দেশের চেয়ে বড় কিছু নেই : প্রধানমন্ত্রী
Image

এনডিএ সরকারই কৃষকদের কথা ভেবেছে, দেশের চেয়ে বড় কিছু নেই : প্রধানমন্ত্রী

নয়াদিল্লি, ২৫ সেপ্টেম্বর (হি.স.): কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের যাবতীয় অভিযোগের উত্তর দিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, এনডিএ সরকারই কৃষকদের কথা ভেবেছে। যাঁরা মিথ্যে বলে এত দিন কৃষকদের পাওনা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিলেন, এখন কৃষকদের কাঁধে বন্দুক রেখে চালাচ্ছেন তাঁরাই। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, কেন্দ্র হোক রাজ্য, বিজেপি সরকার সমাজের সকলকে সমান সুবিধা দেওয়ার পক্ষপাতী। আমাদের কাছে দেশের চেয়ে বড় কিছু নেই। সঙ্ঘ পরিবারের অগ্রপথিক দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ১০৪ তম জন্মবার্ষিকীতে শুক্রবার বিজেপি কার্যকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভিডিও কনফারেন্সিং মারফত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন প্রমুখ। দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে উপস্থিত ছিলেন তাঁরা। এদিন শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ জুড়ে বিজেপির কর্মঠ কার্যকর্তাদের দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানাই। পণ্ডিতজির আদর্শ অনুসরণ করে সকলে এগিয়ে চলুন। দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের সেবায় নিরন্তর কাজ করে চলেছেন আপনারা। করোনা-সঙ্কটের মধ্যেও বিজেপির কর্মীরা সাধারণ মানুষের সেবায় নিযুক্ত রয়েছেন। অনেকে প্রাণও হারিয়েছেন। অন্যকে সাহায্য করতে গিয়ে বিজেপি কার্যকর্তারা সংক্রমিত হয়ে পড়েছেন। আপনাদের সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাই।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, পণ্ডিত দীনদয়ালজির সংস্পর্শে আসার সুযোগ হয়নি আমার। কিন্তু তাঁর আদর্শ ও চিন্তাভাবনা, প্রতি মুহূর্তে অনুপ্রেরণা জোগায়। রাষ্ট্র এবং সমাজ হিসেবে ভারতকে উন্নততর করে তোলায় দীনদয়ালজির ভূমিকা আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। দীনদয়ালজি ভারতের রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি এবং রাজনীতি, সব কিছু নিয়ে লিখেছিলেন দীনদয়ালজি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, দীনদয়ালজি অত্যন্ত দূরদর্শী ছিলেন। স্বাধীন ভারতের রূপরেখা তৈরিতে যখন বিদেশি নীতি অনুসরণ করা হচ্ছিল, সেইসময় দেশীয় সংস্কৃতির উপর জোর দিয়েছিলেন দীনদয়ালজি। প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন,  যুবসমাজ, শ্রমিকশ্রেণী এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে বর্তমানে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারগুলির তরফে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। করদাতা মানুষ যাতে সমস্যার মুখোমুখি না হন তার জন্য ‘ফেসলেস ট্যাক্স সিস্টেম’ কর ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। স্বাধীনতার পরে বহুবছর ধরে কৃষক ও শ্রমিকদের কল্যানে অনেক দাবি-দাওয়া উঠেছিল, অনেক স্লোগানও দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সে সব মিথ্যে প্রতিশ্রুতি ছিল। নাম-না করেই কংগ্রেসকে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের কল্যাণ ছেড়ে কিছু মানুষ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাই বহু বছর ধরেও সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সাহায্য পৌঁছয়নি। তাদের নীতি সাধারণ মানুষের বোধগম্য হত না।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, করের বোঝা বাড়লেও, এত দিন কৃষকদের আয় বাড়েনি। বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ সরকারই তাঁদের কথা ভেবেছে। আগের চেয়ে দেড়গুণ বেশি সহায়ক মূল্য তুলে দিয়েছেন তাঁদের হাতে। ব্যাঙ্কের সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি সংযোগ স্থাপন করায় সচেষ্ট হয়েছে সরকার। পিএম কিষান সম্মান নিধি যোজনার মাধ্যমে ১০ কোটির বেশি কৃষককে ১ লক্ষ কোটির বেশি টাকা দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রচেষ্টাটি ছিল, বেশি সংখ্যক কৃষকদের কাছে কিষান ক্রেডিট কার্ড সরবরাহ করা, যাতে তাঁরা সহজে ঋণ নিতে পারেন। বেশি সংখ্যক কৃষিকদের হাতে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। আগে যাঁদের ২ হেক্টর পর্যন্ত জমি ছিল, তাঁরাই কিসান ক্রেডিট কার্ড পেতেন। আজ সকলেই এই সুবিধা পান। বর্তমানে পশুপালন এবং মাছ চাষে যাঁরা নিষুক্ত রয়েছেন, তাঁরাও এই সুবিধা পাচ্ছেন।


বিরোধীদের আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাঁরা মিথ্যে বলে এত দিন কৃষকদের পাওনা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিলেন, এখন কৃষকদের কাঁধে বন্দুক রেখে চালাচ্ছেন তাঁরা। সরকারি নীতি নিয়ে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন। কৃষকদের মতোই বহু বছর ধরে শ্রমিকদের আইনের জাঁতাকলে আটকে রাখা হয়েছিল। ক্ষেত, নির্মাণ, সংবাদমাধ্যম, চিত্রনির্মাণ শিল্পে যুক্ত শ্রমিকদের জন্য আলাদা আলাদা আইন ছিল। তাই বিচারের জন্য বছরের পর বছর ধরে আদালতের চক্কর কাটতে হতো তাঁদের। শ্রমিক আইনকে আগের চেয়ে সরল ও সোজা করা হয়েছে, এই দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের ৫০ কোটি শ্রমিকরা যাতে সময়ে বেতন পান, আইনি ভাবে তা সুনিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয়েছি আমরা। এত দিন দেশের ৩০ শতাংশ শ্রমিকরাই ন্যূনতম বেতন পেতেন। আগামী দিনে অসংগঠিত ক্ষেত্রে নিযুক্ত সমস্ত শ্রমিকও তা পাবেন। এ বার থেকে ঠিকা শ্রমিকরাও নিয়মিত বেতন পাবেন। আগে যে শ্রমিক আইন ছিল, তাতে দেশের মহিলা শ্রমিকদের জন্য নিরাপত্তা ছিল না। নয়া আইনে তাঁরাও পুরুষদের সমান সুযোগ সুবিধা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কেন্দ্র হোক রাজ্য, বিজেপি সরকার সমাজের সকলকে সমান সুবিধা দেওয়ার পক্ষপাতী। আমাদের কাছে দেশের চেয়ে বড় কিছু নেই। এক বছর আগে দেশবাসী বিজেপিকে ফের ক্ষমতায় এনেছে। তাঁদের জন্য অনেক পরিবর্তন এনেছি আমরা।


কেন্দ্রীয় সরকার কী কী প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে সেই খতিয়ান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ঘরে ঘরে জল ও গ্রামে গ্রামে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছি আমরা। করোনা কালেও আমরা মানুষের পাশে থেকেছি। দেশের প্রতিটি কোণে সাহায্যে পৌঁছে দিয়েছেন বিজেপির কার্যকর্তারা।

Releated Posts

রাজবাড়ীর অন্দরমহলে মঙ্গলচণ্ডী পূজা, ভক্তদের ভিড়ে মুখর মন্দির প্রাঙ্গণ

আগরতলা, ১মে : ২৮শে বৈশাখ উপলক্ষে আগরতলার রাজবাড়ীর অন্দরমহলে অনুষ্ঠিত হলো মঙ্গলচণ্ডী পূজা। সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্ত…

ByByTaniya Chakraborty May 12, 2026

এক মাস ধরে অন্ধকারে কালাপাড়া, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সংকটে ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রামবাসীরা

শান্তিরবাজার, ১১ মে : দীর্ঘ এক মাস ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন শান্তিরবাজার মহকুমার কালাপাড়া…

ByByTaniya Chakraborty May 11, 2026

বিশ্ব রেড ক্রস দিবসে রক্তদান শিবির, উপস্থিত রাজ্যপাল

আগরতলা, ৮ মেঃ “মানবতার মধ্যে ঐক্য” — এই মূল বার্তাকে সামনে রেখে শুক্রবার আগরতলা রেড ক্রস ভবনে যথাযোগ্য…

ByByReshmi Debnath May 8, 2026

তিন রাজ্যে বিজেপির জয়ে খোয়াইয়ে বিজয় মিছিল, উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের

আগরতলা, ৭ মে : তিন রাজ্যে বিজেপির বিপুল জয়ে উচ্ছ্বাসে মাতল খোয়াই জেলা বিজেপি। বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় একটা…

ByByReshmi Debnath May 7, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top