জোলাইবাড়ি ও তেলিয়ামুড়ায় দুই যুবকের ফাঁসিতে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা/ তেলিয়ামুড়া, ১২ জুলাই৷৷ পৃথক স্থানে দুই যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে৷ একটি ঘটনা তেলিয়ামুড়ায় এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে জোলাইবাড়ীতে৷ দুটি ঘটনারই পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে৷


গলায় ফাঁস লাগিয়ে নিজ ঘরেই আত্মহত্যা করলো ১২ বছরের এক যুবক৷ তবে কি এটা আত্মহত্যা না কারোর প্ররোচনায় ভয়ে আতঙ্কে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল সেই যুবক প্রশ্ণ উঠছে গোটা এলাকায়৷ তাদের পরিবারের লোক অভিযোগ করে জানায় এলাকার কারোর সাথে নাকি কোন একটি বিষয় নিয়ে ঝামেলা চলছিল৷ বারবার হুমকি ও আসছিল৷ তার জন্যই কি সে আত্মহত্যা না অন্য কোন কারণ? তা পুলিশী তদন্তের বের হয়ে আসবে মূল রহস্য৷ ঘটনা তেলিয়ামুড়া থানাধীন তুইসিন্দাই এলাকায়৷
ঘটনায় জানা যায়, ওই এলাকার মৃত রঞ্জন নন্দীর ছেলে জন নন্দীর গতকাল সাড়ে চারটার দিকে ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায় তার পরিবারের লোক৷ খবর দেওয়া হয় তেলিয়ামুড়া থানায়৷ প্রায় সাতটা নাগাদ পুলিশ বাহিনী ঘটনা স্থল থেকে দেহটি উদ্ধার করে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয় ময়না তদন্তের জন্য৷ আজ সকালে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের হাতে মৃত দেহ তুলে দেওয়া হয়৷ তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া গোটা এলাকায়৷


তাদের পরিবারের লোক অভিযোগ করে বলে এলাকার কে বা কারা কয়েকদিন যাবত তার সাথে ঝামেলায় জরিয়ে ছিল৷ তাকে নাকি বাড়ি থেকে না বের হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়৷ গত দুদিন সে ঘরেই ছিল একা একা৷ আর গতকাল বিকালে কোন এক সময় নিজ ঘরেই ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে৷ তবে আসলে এই মৃত্যুর পিছনে কি রহস্য লুকিয়ে আছে তা একমাত্র পুলিশী তদন্তেই বের হয়ে আসতে পারে৷


এদিকে, জোলাইবাড়ী কাকুলিয়া এলাকা থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার৷ ঘটনার বিবরনে জানা যায় শান্তির বাজার মহকুমার অন্তর্গত জোলাইবাড়ী কাকুলিয়ার বাসিন্দা বাবুল নমঃ -র ছেলে সুব্রত নমঃ , বয়স ২০, শনিবার বিকালবেলা বাড়ি থেকে বের হয়৷ রাত্রি বেলায় ঘরে না ফেরার ফলে বাড়ীর লোকজন সুব্রত নমঃ কে খোঁজ করতে শুরু করে৷ অবশেষে রাত আনুমানিক ১০ টা নাগাদ বাড়ীর পাশে জঙ্গলে একটি গাছের মধ্যে সুব্রত নমঃ এর দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় পরিবারের লোকজন৷ ঘটনার বিবরন জানিয়ে সঙ্গে সঙ্গে জোলাইবাড়ী ফাঁড়ী থানায় জানানো হয়৷ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ রাত্রিবেলায় ঘটনাস্থলে গিয়ে সুব্রত নমঃকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চলে আসে৷ পরিবারের লোকজনদের কাছ থেকে জানা যায় পুলিশ রাত্রি বেলায় মৃতদেহ গাছ থেকে নামায়নি৷

রবিবার সকালে সুব্রত নমঃ-র মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামানো হয়৷ পুলিশের এই ধরনের ভূমিকা ক্ষোভ রয়েছে এলাকার লোকজনদের মনে৷ অপর দিকে জানা যায় সুব্রত নমঃ গত ৪ বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে৷ বিবাহের এক বছর পরে সুব্রত এর সহধর্মীনি তাকে ছেরে বাপের বাড়ী চলে গেছে৷ তখন থেকে শুরু হয় পারিবারিক অশান্তি৷ এই পারিবারিক অশান্তির ফলে সুব্রত নমঃ আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিক ধারনা৷