নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ জুন৷৷ ত্রিপুরার সরকারি, সরকার অধীনস্ত সুকলগুলিতে আগামী ১৬ জুন থেকে বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে৷ এক্ষেত্রে ত্রিপুরার শিক্ষা দফতরের তরফে অভিভাবকদের শংসাপত্র সংগ্রহ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে৷ এদিকে, পাশ-ফেল প্রথা চালু হওয়ার দরুন পঞ্চম শ্রেণিতে ১০ শতাংশ এবং অষ্টম শ্রেণিতে ১৪ শতাংশ ছাত্রছাত্রী অকৃতকার্য হয়েছে৷ তবে, তাদের সুকল খোলার এক মাসের মধ্যে বছর বাঁচাও প্রকল্পের অধীনে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে৷
এ-বিষয়ে আজ সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, করোনা-র প্রকোপে লকডাউনের জেরে বিদ্যালয়গুলির বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে৷ আগামী ১৬ জুন থেকে ওই ফলাফল প্রকাশ করা হবে৷ তিনি বলেন, ১৬ জুন একাদশ শ্রেণি, ১৮ জুন নবম শ্রেণি, ১৯ জুন তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি এবং ২০ জুন ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে৷
তাঁর কথায়, প্রত্যেক বিদ্যালয়ে শংসাপত্র পৌঁছে যাবে৷ সেক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের বদলে অভিভাবকদের বিদ্যালয় থেকে শংসাপত্র সংগ্রহের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি৷ তাঁর দাবি, প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষার রেওয়াজ নেই৷ ওই ছাত্রছাত্রীদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়৷ আগামী ২৫ জুনের মধ্যে তাদেরও বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে৷
এদিন তিনি জানান, তৃতীয় শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ত্রিপুরায় সরকারি এবং সরকার অধীনস্ত বিদ্যালয়গুলিতে ৩ লক্ষ ২০ হাজার ছাত্রছাত্রী রয়েছে৷ তাদের মধ্যে ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ছাত্রছাত্রীর শিখন স্তর নিম্নমানের ছিল৷ তাই নতুন দিশা প্রকল্পে ওই ছাত্রছাত্রীদের শিখন স্তরের মান বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়েছে৷ তাতে অনেকটা সাফল্য মিলেছে বলে তিনি দাবি করেছেন৷
মন্ত্রীর দাবি, বার্ষিক পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণিতে ৯২ শতাংশ, চতুর্থ শ্রেণিতে ৯৩ শতাংশ এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৯০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী পাশ করেছে৷ তেমনি, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৯৩ শতাংশ, সপ্তম শ্রেণিতে ৯৪ শতাংশ এবং অষ্টম শ্রেণিতে ৮৬ শতাংশ ছাত্রছাত্রী পাশ করেছে৷ শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, ত্রিপুরায় পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল প্রথা চালু রয়েছে৷ এক্ষেত্রে পঞ্চম শ্রেণিতে ৪৮,০৮৮ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ৪,৭১৮ জন, প্রায় ১০ শতাংশ এবং অষ্টম শ্রেণিতে ৫৩,৩৩৬ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ৬,৮৪২ জন, প্রায় ১৪ শতাংশ ছাত্রছাত্রী বার্ষিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে৷ কিন্তু বছর বাঁচাও প্রকল্পের অধীনে তাদেরকেও সুযোগ দেওয়া হবে৷ তাঁর দাবি, সুকল খোলার এক মাসের মধ্যে তারা পরীক্ষা দিতে পারবে৷ এর জন্য বিশেষ কোচিঙের ব্যবস্থাও করা হবে৷

