নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ এপ্রিল৷৷ কোভিড-১৯ মোকাবিলার প্রস্তুতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার ত্রিপুরার প্রধান হাসপাতাল জিবি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ যাবতীয় ব্যবস্থা তিনি ঘুরে দেখেছেন৷ কথা বলেছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের সাথে৷ এ-বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংক্রমণ মোকাবিলায় যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ত্রিপুরার সবকটি জেলায়ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে৷
বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় আগরতলার জিবি হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ প্রথমেই তিনি হাসপাতালে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় নির্দিষ্ট ব্লক ঘুরে দেখেন৷ যদি কোনও আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে আসেন, তবে তাঁকে কীভাবে চিকিৎসা করানো হবে, গোটা প্রক্রিয়া মহড়ার মাধ্যমে দেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ কর্তব্যরত চিকিৎসকরা এদিন গোটা বিষয়টি তাঁর সামনে তুলে ধরেন৷
পরে মুখ্যসচিব ও স্বাস্থ্যসচিবকে নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ও করোনা প্রতিরোধে গঠিত টিমের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে অবগত হন তিনি৷ বর্তমান সময়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনেকটাই কমেছে৷ এই ধারা বজায় রাখার জন্য বর্তমান ব্যবস্থাকে আগামী দিনেও জারি রাখার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷
আজকের পরিদর্শন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব সাংবাদিকদের জানান, এখন পর্যন্ত ত্রিপুরায় করোনা সংক্রমণের কোনও ঘটনা নেই৷ তবে, যদি পাওয়া যায় তা হলে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা দেখার জন্যই তিনি জিবি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন৷ তিনি বলেন, জিবি হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষ ইউনিট খোলা হয়েছে৷ চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীদের থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে সেখানে৷ সাত দিন অন্তর তাদের বদলানো হবে এবং কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জিবি হাসপাতালের পাশাপাশি আইজিএম এবং জেলা হাসপাতালগুলিতেও কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ৫০ আসন বিশিষ্ট বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে৷
এদিন তিনি বলেন, ত্রিপুরায় এখনও সংক্রমণ না হলেও সাবধানতা অবলম্বন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে৷ কারণ ইতিমধ্যেই পার্শবর্তী অসম ও মণিপুরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত পাওয়া গেছে৷ যদিও ত্রিপুরার সীমান্ত সিল করা রয়েছে৷ পাশাপাশি তিনি আহ্বান রাখেন, ’ত্রিপুরাবাসীও নিজেদের বাড়ি সিল করে রাখুন৷’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, দিল্লির একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে যারা ত্রিপুরায় ফিরেছেন, তাঁদের কাউকেই এখনও সংক্রমিত পাওয়া যায়নি৷ তবে, বহিঃরাজ্য বা বিদেশ থেকে এসে যদি কেউ সেই তথ্য লুকিয়ে রাখেন তবে তার বিরুদ্ধে এপিডেমিক ডিজিজ অ্যাক্ট অনুসারে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সতর্ক করেন তিনি৷

