নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৯ ফেব্রুয়ারি৷৷ উড়ান প্রকল্পে আজ থেকে আগরতলা-আইজল (মিজোরামের রাজধানী) বিমান পরিষেবা চালু হয়েছে৷ আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগে এক নতুন পালক যুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ত্রিপুরার পরিবহণ মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায়৷ ইন্ডিগো বিমান সংস্থা প্রতিদিন আগরতলা-আইজল রুটে ৭৮ আসন বিশিষ্ট এটিআর বিমান চালাবে৷
শনিবার আইজল থেকে আগরতলায় ৩৮ জন যাত্রী এসেছেন৷ আগরতলা থেকে ৪৭ জন যাত্রী গিয়েছেন আইজল৷ সূচনা লগ্ণেই যাত্রী ভিড় দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার আঞ্চলিক অধিকর্তা সঞ্জীব জিন্দাল৷ তিনিও আজ ওই বিমানে আইজল থেকে আগরতলায় এসেছেন৷
কেন্দ্রীয় সরকার আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী এবং বিমান পরিষেবাকে সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে উড়ান প্রকল্প চালু করেছিল৷ মূলত, আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রকল্পের অধীন এই প্রকল্পের সূচনা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার৷ ‘উড়ে দেশ-কি আম নাগরিক’, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্ণ বাস্তবায়নে ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল উড়ান প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল৷ প্রকল্পটি ১০ বছরের জন্য চালু করা হয়েছে৷ প্রয়োজনে সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে৷
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ত্রিপুরা তৃতীয় রাজ্য হিসেবে আজ উড়ান প্রকল্পে বিমান পরিষেবা চালু হয়েছে৷ ইতিপূর্বে ইমফল-ডিমাপুর এবং গুয়াহাটি-ডিমাপুর উড়ান প্রকল্পে বিমান পরিষেবা চালু হয়েছে৷ এখন তেজপুর-তেজু (অরুণাচল প্রদেশ) বিমান পরিষেবাও উড়ান প্রকল্পের অধীনে চালু করার চেষ্টা চলছে৷ মূলত মুনাফা ছাড়া যাত্রী সুবিধার্থে বিমান পরিষেবার জন্য বিমান সংস্থাকে উড়ান প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করছে৷
আজ আরগতলার মহারাজা বীরবিক্রম মাণিক্য বিমানবন্দরে উড়ান প্রকল্পে আগরতলা-আইজল বিমানের ফ্ল্যাগ অব করেন পরিবহণ মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায়৷ এই অনুষ্ঠানে ছিলেন বড়জলার বিধায়ক ডা. দিলীপ দাস, এয়ারপোর্ট অব ইন্ডিয়া-র আঞ্চলিক অধিকর্তা সঞ্জীব জিন্দাল, আগরতলা এয়ারপোর্ট অথরিটির অধিকর্তা ভি কে শেঠ প্রমুখ৷ পরিবহণ মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায় নতুন বিমান পরিষেবার জন্য অত্যন্ত খুশি ব্যক্ত করে কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন৷
মন্ত্রীর কথায়, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ত্রিপুরার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আজ এক নতুন পালক যুক্ত হয়েছে৷ তিনি বলেন, স্পাইসজেট বিমান সংস্থা ত্রিপুরা থেকে পরিষেবা গুটিয়ে নেওয়ার পর আকাশপথে যোগাযোগ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল৷ কিন্তু রাজ্য সরকার সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পেরেছে৷ অবশ্যই এতে কেন্দ্রীয় সরকার দু হাত খুলে ত্রিপুরাকে সাহায্য করেছে৷ তাঁর দাবি, ত্রিপুরায় এখন প্রতিদিন ১৮টি বিমান উঠা-নামা করছে৷ নতুন টার্মিনাল ভবন চালু হলে আরও বিমান সংস্থা ত্রিপুরায় পরিষেবা দিতে এগিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন৷ তাঁর কথায়, গো-এয়ার, ভিস্তারা বিমান সংস্থার সাথে আলোচনা চলছে৷ তারাও ত্রিপুরায় বিমান পরিষেবা চালু করতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে৷ ফলে, আগামীদিনে আগরতলা থেকে আরও বিমান প্রতিদিন উঠা-নামা করবে বলে তিনি আশাবাদী৷
তাঁর বক্তব্য, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে আগরতলা বিমানবন্দর যাত্রী পরিবহণে গুয়াহাটির পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে৷ কারণ, ত্রিপুরার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রচুর যাত্রী ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতের জন্য আগরতলা বিমানবন্দরকে ব্যবহার করেন৷ স্বাভাবিকভাবেই, আগরতলা বিমানবন্দরের গুরুত্ব দিন দিন বেড়ে চলেছে৷
এদিন এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার আঞ্চলিক অধিকর্তা সঞ্জীব জিন্দাল বলেন, উড়ান প্রকল্প আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে৷ আগরতলা থেকে আইজল নতুন বিমান পরিষেবা চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন৷ তিনি জানান, আগরতলা বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবন আগস্টের মধ্যে সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে যাবে৷ এতে সমস্ত আধুনিক সুবিধার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে৷

