নয়াদিল্লি, ৩ জুলাই (হি. স.) : “আমি আর কংগ্রেসের সভাপতি নই”, বুধবার এককথায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণাই করে দিলেন রাহুল গান্ধী। দেশজুড়ে কংগ্রেস কর্মীদের আশায় জল ঢেলে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্তেই অটল থাকলেন রাহুল গান্ধী। তাঁর সিদ্ধান্তে দুঃখপ্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা সলমন খুরশিদ। পরিবারতান্ত্রিক দলের এই ব্যাপারে আমাদের কোনও ভূমিকা নেই, বলে বিষয়টির থেকে দূরত্ব বাড়ালেন বিজেপি নেতা নলীন কোহলি। দলের নতুন অন্তর্বতী সভাপতির পদে নাম মনোনীত হয়েছে মোতিলাল ভোরার৷ যদিও দলীয় তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সেই নাম ঘোষণা করা হয়নি৷ এই প্রসঙ্গে মোতিলাল ভোরা বলেন, অন্তবর্তী সভাপতির দায়িত্বভার নেওয়ার কোনও খবর আমার কাছে নেই।

বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশজুড়ে সরব হয়েছিলেন কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীরাও। অনেকেই তাঁকে পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে নেওয়ার আর্জিও জানান। কিন্তু, লোকসভা নির্বাচনে হারের জন্য সভাপতি হিসাবে নিজেকেই দায়ী করে পদত্যাগের কারণ স্পষ্ট করলেন রাহুল। চার পাতার একটি চিঠি টুইট করে এদিন তিনি জানিয়েছেন, “কংগ্রেস পার্টির সভাপতি হিসাবে ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে হারের জন্য আমি দায়ী। আমাদের পার্টির ভবিষ্যতের জন্য দায়বদ্ধতা নিতে হবে। এই কারণেই দলের সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি আমি।”
এবার কে হতে চলেছেন কংগ্রেসের পরবতী সভাপতি, সেই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে জোর জল্পনা। এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এই নিয়ে তৃতীয়বার কংগ্রেস দলের দায়িত্ব নেহরু-গান্ধী পরিবারের বাইরে কারওর হাতে যেতে পারে এমন সম্ভাবনাই জোরদার হয়েছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফার কথা ঘোষণার পর এদিন নিজের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে সভাপতির পরিচয়ও সরিয়ে দিয়েছেন। এতদিন কংগ্রেস দলের সেবা করতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন বলে টুইটারে তাঁর খোলা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন রাহুল গান্ধী। এই দেশ ও তাঁর দলের কাছে তিনি কৃতজ্ঞ বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, লোকসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের জেরে কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকেই ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন রাহুল গান্ধী। যদিও গত ২৫ মে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (সিডব্লিউসি) বৈঠকে তাঁর পদত্যাগপত্র খারিজ করে দেয় সিডব্লিউসি। তারপর দলের সভাপতির এহেন সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়িয়ে একের পর এক কংগ্রেস নেতার পদত্যাগের হিড়িক পড়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটে তাঁর পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে নেওয়ার আর্জি জানিয়ে সোমবার ৫ কংগ্রেস শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখাও করেন। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট, মধ্যপ্রদেশের কমল নাথ, পঞ্জাব এবং পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রীরা আশা করেছিলেন কংগ্রেস পার্টির সভাপতির পদে তিনিই থাকবেন। এরপর মঙ্গলবার রাহুল গান্ধীর বাসভবনের সামনে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধরনায়ও বসেন একাধিক কংগ্রেস নেতানেত্রী। কিন্তু, সেইসব সম্ভাবনা উড়িয়ে এদিন রাহুল গান্ধী ঘোষণা করলেন, “আর দেরি না করে পার্টির নতুন সভাপতি নির্বাচন করা উচিত। আমি এই প্রক্রিয়ায় থাকছি না। আমি ইতিমধ্যেই আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। আমি আর কংগ্রেস পার্টির সভাপতি নই। নতুন সভাপতি নির্বাচনের জন্য শীঘ্রই বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত সিডব্লিউসি-র।”
এই ঘোষণার পর রাহুল গান্ধীকে অভিনন্দন জানিয়ে ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুখ আবদুল্লা জানিয়েছেন, “নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার জন্য অভিনন্দন। ওর বয়স কম, ভবিষ্যতে আবারও দলের সভাপতি হতে পারবেন। আমার মনে হয় না শুধুমাত্র পরাজয়ের জন্য এমন সিদ্ধান্ত, সবসময়ই ওই পদে অন্য কাউকে চেয়েছিলেন রাহুল। আমি আশা করব, এবার দল গড়ার কাজে মন দেবেন তিনি।”
নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে চার পাতার একটি চিঠি টুইট করে এদিন রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, “কংগ্রেস পার্টির সভাপতি হিসাবে ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে হারের জন্য আমি দায়ী। আমাদের পার্টির ভবিষ্যতের জন্য দায়বদ্ধতা নিতে হবে। এই কারণেই দলের সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি আমি।”
তাঁকে কটাক্ষ করে এদিন টুইটারে তাঁর এই পোস্টের কমেন্ট সেকশনে বিজেপি নেত্রী এবং আমেঠির সাংসদ স্মৃতি ইরানি লিখেছেন, “জয় শ্রীরাম”। রাহুল গান্ধীর এই ঘোষণার পর বিজেপি নেতা নলীন কোহলি বললেন, “তিনি পদত্যাগ করবেন কিনা তা তাঁর সিদ্ধান্ত। আমাদের দেশে দুই ধরনের দল রয়েছে, গণতন্ত্রের দ্বারা পরিচালিত বিজেপির মতো একটি দল এবং অপর দিকে, কংগ্রেসের মতো পরিবারতান্ত্রিক একটি দল। তাই তাদের সিদ্ধান্তে আমাদের কোনও ভূমিকা নেই।” অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা সলমন খুরশিদ বলেছেন, “তিনি দলের সভাপতির পদ ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি আমাদের নেতাই থাকছেন। সোনিয়া গান্ধীও আর সভাপতি নন, তবে তিনিও আমাদের নেত্রী। তাঁদের প্রতি পার্টি কর্মীদের প্রশংসা, স্নেহ, আস্থা অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে, সূত্রের খবর এই অবস্থায় কংগ্রেসের নতুন অন্তর্বতী সভাপতির পদে নাম মনোনীত হয়েছে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা মতিলাল ভোরার৷ যদিও দলীয় তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সেই নাম ঘোষণা করা হয়নি৷ এই প্রসঙ্গে মোতিলাল ভোরা বলেন, অন্তবর্তী সভাপতির দায়িত্বভার নেওয়ার কোনও খবর আমার কাছে নেই।

