নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩ জুন ৷৷ বহু চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা গেল না৷ চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল অগ্ণিদগ্দ তরণী বধূ শারমিন আক্তার৷ কলকাতা থেকে কফিনবন্দী মৃতদেহ ফিরে এল৷ বিশালগড়ের দুর্গানগরস্থিত বাপের বাড়িতে৷ তার মৃত্যুর সংবাদে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷ ভালবেসে বিয়ে করার শেষ পরিণতি হল মৃত্যু৷

বিশালগড়ের দুর্গানগরের তরুণী শারমিন আক্তারের সঙ্গে গভীর ভালবাসার বন্ধন গড়ে উঠেছিল বিএসএফে কর্মরত বক্সনগরের নয়নজলার মহম্মদ আলমের৷ তাদের ভালবাসাকে পূর্ণ রূপ দিতে সামাজিকভাবে বিয়েও দেওয়া হয়েছিল৷ তারা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ণ দেখছিল৷ কিন্তু মুহূর্তেই তাদের সেই রঙ্গিন স্বপ্ণ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে৷ বিয়ের ছয়মাসের মধ্যেই সব সুখ, শান্তি উবে গেল৷ মৃত্যুই হল তরুণী বধূ শারমিন আক্তারের৷ চরম পরিণতি৷ বিশালগড়ের দুর্গানগর এলাকার শাহজাহান মিঞার ফুটফুটে তরুণী কন্যা শারমিন আক্তারকে সামাজিক প্রথায় বিয়ে দেওয়া হয়েছিল বক্সনগরের নয়নজলা গ্রামের বিএসএফ জওয়ান মহম্মদ আলমের সঙ্গে৷ বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী মহম্মদ আলম বহির্রাজ্যে কর্মস্থলে চলে যায়৷ নববধূ থাকে শ্বশুরবাড়িতেই৷ সে বহু অনুনয় বিনোনয় করেছিল স্বামীর সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য৷
কিন্তু কিছুদিন বাড়িতে থাকার জন্য আবদার করেছিল স্বামী৷ বাড়িতে ছিল শ্বশুর শাশুড়ি এবং দুই ভাসুর৷ শারমিন খুবই সুন্দরী৷ নজর পড়ে দুই ভাসুরের৷ প্রায়ই তাকে উত্যক্ত করত৷ কিন্তু তাদের কু-প্রস্তাবে শারমিন পাত্তা দিত না৷ ফলে তার উপর নানা কৌশলে নির্যাতন শুরু হয়৷ বিষয়টি শারমিন তার শ্বশুর শাশুড়িকে জানায়৷ এমনকি গত ২৫ মে এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগও জানিয়েছিল শারমিন৷ তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে৷ বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেন শ্বশুর শাশুড়িও৷ এর ফলে দুই গুণধর পুত্রের আক্রমণের শিকার হন তাদের মা-বাবাও৷ ২৭মে শ্বশুর শাশুড়ি সকালবেলা যখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান সেই সুযোগে তরুণী বধূ শারমিনের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে দুই ভাসুর৷ তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখান থেকে জিবিতে স্থানান্তর করা হয় অগ্ণিদগ্দ শারমিনকে৷
এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাসক দল বিজেপি’র মহিলা মোর্চাও৷ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন মহিলা কংগ্রেসের নেত্রীরাও৷ ডানবাম উভয়দলই এই পাশবিক ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিল৷ এদিকে অগ্ণিদগ্দ তরুণী বধূ শারমিনের উন্নত চিকিৎসার জন্য জিবি হাসপাতাল থেকে কলকাতা নিয়ে যাওয়া হয়৷ কিন্তু শেষ রক্ষা করা যায়নি৷ কলকাতা থেকে সোমবার কফিনবন্দী মৃতদেহ ফিরে আসে বিশালগড়ের দুর্গানগরস্থিত শারমিনের বাপের বাড়িতে৷ এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷ ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী শারমিনের দেহ এদিন কবরস্থ করা হয়৷ আত্মীয়পরিজনের অশ্রু জলে শেষ বিদায় নেয় শারমিন৷
এদিকে অভিযুক্ত দুই ভাসুর মহম্মদ সাহিন এবং সোহেল মিঞাকে গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে৷ এর জল বহু দূর পর্যন্ত গড়ানোর আশঙ্কাও রয়েছে৷

