নয়াদিল্লি, ৭ জানুয়ারি (হি.স.) : দেশে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে বড় চমক দিল কেন্দ্রের এনডিএ সরকার। এবার উচ্চশ্রেণির মানুষকে সংরক্ষণের আওতায় আনতে চলেছে তাঁর সরকার। সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে। সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, চাকরির ক্ষেত্রে সংরক্ষণের আওতায় আসবে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া সব শ্রেণির মানুষ। তাঁদের মধ্যে থাকতে পারেন উচ্চবর্ণরাও। তবে তাঁদের আয় বছরে আট লাখের নীচে থাকতে হবে। উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রেও এই সংরক্ষণের সুবিধে পাওয়া যাবে।
মোদী সরকারের সিদ্ধান্ত, উচ্চশ্রেণির মানুষ, অথচ আর্থিকভাবে দুর্বল, তাদের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়া হবে। বার্ষিক রোজগার ৮ লক্ষ টাকার কম হলেই এই সংরক্ষণের আওতায় আসবেন উচ্চশ্রেণির মানুষ।পাশাপাশি যাঁদের ৫ হেক্টরের কম জমি রয়েছে, তাঁরাও এই সংরক্ষণের আওতায় আসবেন। এছাড়া আরও বেশ কিছু শর্ত রাখা হচ্ছে ওই সংরক্ষণে। সেগুলি হল, বাড়ি ১০০০ স্কোয়ার ফিটের বেশি হলে চলবে না। পুরসভা এলাকায় বাড়ি থাকলে, তা ১০৯ গজ এলাকার চেয়ে কম হতে হবে। পুর এলাকার বাইরে যাঁরা থাকেন, তাঁদের বাসস্থানের আয়তন ২০৯ গজ এলাকার বেশি হওয়া যাবে না।
এই সিদ্ধান্ত বলবত্ করার জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন। বদলাতে হবে সংবিধানের ১৫ নম্বর ধারা। দ্রুত সেই কাজ শেষ করা হবে বলে জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে।আগামীকাল মঙ্গলবার সংসদে শেষ হচ্ছে শীতকালীন অধিবেশন। এখন দেখার শেষদিনেই সংবিধান সংশোধন করে ওই বিল পেশ করা হয় কি না। নাকি বিলটি বাজেট অধিবেশনে পেশ করে সরকার।

তবে রাজনৈতিক মহলের মত, লোকসভা নির্বাচনের আগে এই পদক্ষেপ মাস্টারস্ট্রোক। কারণ, এনডিএ-র দুই ক্ষুব্ধ শরিক নেতা লোকজনশক্তি পার্টির রামবিলাস পাসোয়ান ও আরপিআই-এর রামদাস আটাওয়ালে এই সংরক্ষণের দাবিতে দীর্ঘদিন সরব। সেই ক্ষোভ অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া গেল। পাশাপাশি উচ্চ শ্রেণির একটা অংশের মানুষের সমর্থনও এই পদক্ষেপ থেকে বিজেপি আদায় করে নিতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বিরোধীরা এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তারা এই সিদ্ধান্তকে ভোটের আগে মোদী সরকারের চমক বলেই মনে করছে।এ বিষয়ে আইন আনতে সংবিধান সংশোধনী বিল সরকার মঙ্গলবার সংসদে পেশ করতে পারে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে যে ৫০% সংরক্ষণ রয়েছে, তার উপরে আরও ১০% সংরক্ষণ হবে।

