নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ জানুয়ারী৷৷ বিজেপি সর্বাভারতীয় সভাপতি অমিত সাহ শনিবার আগরতলায় পৃষ্ঠাপ্রমুখ সম্মেলনে যা যা বলেছেন তাকে আরও একবার জুমলা বলে আখ্যা দিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাশ৷ পাশাপাশি শ্রীদাশ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন৷ কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদান থেকে শুরু করে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা সবকিছু নিয়েই সুর চড়িয়েছেন গৌতমবাবা৷ রবিবার আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে গৌতম দাশ বলেন, বিজেপির সর্বাভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন রাজ্যে নাকি সপ্তম বেতন কমিশন চালু করেছে৷ কার্যত সপ্তমের নামে বামফ্রন্ট সরকার যে পে মেট্রিক্স চালু করেছিল তারই অনুকরণ৷ তা্য সব ক্ষেত্রে হয়নি৷ অমিত শাহ বলেছিলেন, রাজ্যে নাকি আইনের শাসন রয়েছে৷ এ প্রসঙ্গে গৌতমবাবু বলেন, নতুন সরকারের আমলে মাত্র দশ মাসে সিপিএম কর্মী সমর্থকদের ১৫৬টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷ বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে৷ রাজধানী আগরতলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে খুন খারাপি, হামলা হুজ্জুতির ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে৷

গৌতমবাবুর প্রশ্ণ নরেন্দ্র মাদি সরকার নাকি রাজ্যকে বাম বঞ্চনার অভার মেটাতে প্রচুর পরিমাণে অর্থ দিয়েছে রাজ্যকে৷ তবে কেনই বা কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা গেলো না৷ রাজ্যের একমাত্র উড়ালপুল যার উদ্বোধন হবার কথা ছিল আরও অনেক আগে তারও উদ্বোধন করা যাচ্ছে না৷ এক্ষেত্রে ঠিকাদারদের বিল না মিটিয়ে যুব উৎসব, ক্রীড়া উৎসবের নামে ব্যাপকভাবে লুট রাজত্ব চলছে বলে গৌতমবাবুর অভিযোগ৷ ১০৩২৩ চাকুরীচ্যুত শিক্ষকদের প্রসঙ্গে গৌতম দাশ বিচারপতি আদর্শ গোয়েলকে আক্রমণ করেন৷ তিনি বলেন, বিচারপতি আদর্শ গোয়েল তো বিজেপির আইনজীবী সংগঠনেরই নেতা৷
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর বক্তব্যকে টেনে গৌতমবাবু এদিন মন্তব্য জুড়ে দিলেন কৃষকদের ধান ক্রয়ের বিষয়টি নিয়েও৷ তিনি জানান, এফসিআই নাকি লাভজনক দর দিয়ে ধান ক্রয় করছে কৃষকদের কাছ থেকে৷ বস্তুত দেখা যাচ্ছে এই ধান ক্রয়ের জন্য কৃষকদেরকে ‘এ’ ক্লাস ধান দেখাতে হচ্ছে৷ আনারস রপ্তানীর ক্ষেত্রেও তার মন্তব্য একবার মুখ্যমন্ত্রী ঘটা করে তার উদ্বোধন করেছিলেন৷ আর এখন? বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন নিয়েও তিনি বলেন, কোনও মতে রাজ রাজাদের প্রতি অশ্রদ্ধা ছিল না বামপন্থীদের৷ গোটা বিষয়টিই কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়৷ সার্বিকভাবে কাজ এবং খাদ্য সংকট জিইয়ে রেখে এর মাধ্যমে কী আর উপজাতি পেট ভরবে?
এদিকে, গৌতমবাবু এনআরসি বিষয়ে বলেন, আগামী আট জানুয়ারী সংসদে যাতে এই বিষয়টি না আনা হয় সে বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন৷ পাশাপাশি গোটা বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিরোধীতা এবং নিন্দাও জানিয়েছেন তিনি৷ তিনি মনে করেন, এই ইস্যুতে ফের ধর্মীয় এবং সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ করে লোকসভা জয়ের ফন্দি এঁটেছেন তারা৷ তিনি বলেন, প্রতারণা, জুমলাবাজী এবং আইনের শাসন পিরিয়ে আনতে লড়াই আন্দোলন জারি থাকবে বামপন্থীদের৷ পূর্ণ সমর্থন চাইছেন জনগণের৷

