নয়াদিল্লি, ২৫ ডিসেম্বর (হি.স.): চলতি বছরেই প্রয়াত হয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী| ২৫ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) ভারতরত্ন অটলবিহারী বাজপেয়ীর ৯৪ তম জন্মদিন| বাজপেয়ীর স্মরণে সোমবারই ১০০ টাকার কয়েন প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী| বাজপেয়ীর প্রয়াণে পর প্রথমবার, রাজঘাটের কাছে যেখানে বাজপেয়ীর শেষকৃত্য হয়েছিল (রাষ্ট্রীয় স্মৃতি স্থল) সেখানে ন’টি পাথর দিয়ে তৈরি হয়েছে স্মৃতিস্থল| মঙ্গলবার সকালে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মদিনে রাষ্ট্রীয় স্মৃতি স্থলে সেই স্মৃতি সৌধ উন্মোচন করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ| রাষ্ট্রপতি ছাড়াও স্মৃতি সৌধ উন্মোচনের সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-রাষ্ট্রপতি এম বেঙ্কাইয়া নাইডু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ, বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং প্রবীণ সাংবাদিক তথা হিন্দুস্থান সমাচার সংবাদ সংস্থার গ্রুপ এডিটর পদ্মশ্রী রাম বাহাদুর রাই প্রমুখ|
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী জন্মদিন ২৫ ডিসেম্বর| এ বছর তিনি ৯৪-এ পা দিলেন| বর্ষশেষে দেশবাসী বারবার মনে করেছে ভারতরত্ন অটলবিহারী
বাজপেয়ীকে| ১৯২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিওরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী| দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর চলতি বছরের ১৬ আগস্ট দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এ জীবনাবসান হয়েছে তাঁর| গোটা দেশবাসীর পাশাপাশি ৯৪ তম জন্মদিনে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীকে বারবার মনে করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ| মঙ্গলবার সকালে মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটার মারফত রাষ্ট্রপতি লিখেছেন, ‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং সত্যিকারের ভারতীয় রাজনেতা শ্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মদিনে তাঁকে খুবই মনে পড়ছে| অটলজি সর্বদা দেশবাসীর অন্তরে এবং মনের মধ্যে বিরাজ করবেন|’ নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমাদের সবার প্রিয়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী স্বর্গীয় অটলবিহারী বাজপেয়ীকে জন্মদিনে শত শত প্রণাম|’ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইটারে লিখেছেন, ‘জন্মদিনে অটলবিহারী বাজপেয়ীজিকে প্রণাম| আমরা তাঁকে খুবই মিস করছি|’
১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলন দিয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি অটলবিহারী বাজপেয়ীর| দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক জীবনে বহু চড়াই-উতরাই পার করেছেন তিনি| ১০ বার লোকসভার সাংসদ| তিন বার প্রধানমন্ত্রী| তবে, প্রথম দু’বার নামমাত্র সময়ের জন্য| প্রথমে ১৩ দিন, তার পরে ১৩ মাস| এরপর ১৯৯৯ সাল থেকে পূর্ণ মেয়াদের জন্য| প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সাফল্যের খাতায় জ্বলজ্বল করছে পোখরান, সোনালি চর্তুর্ভুজ, দিল্লি-লাহোর বাসযাত্রা| তাঁর আমলেই ভারতীয় সেনার কার্গিলে ‘বিজয়’| তিনি রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন, ছিলেন কবিও| বাজপেয়ীর মৃতু্যর পরই হিমালয়ের চারটি শৃঙ্গের নাম রয়েছে তাঁর নামে| ছত্তিশগড়ের নয়া রায়পুরের নামও পাল্টে রাখা হয়েছে অটল নগর|

