কেন্দ্রীয় ভর্তুকী প্রত্যাহারের ফলে রেশনে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে চিনি সরবরাহ

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ এপ্রিল৷৷ বিগত ২০১৩ সালের জুন মাস থেকে কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক এফ সি আই-এর মাধ্যমে চিনি সরবরাহ করার দীর্ঘ প্রচলিত পদ্ধতি রদ করে গণবন্টন ব্যবস্থার আওতায় চিনি সরবরাহ করার জন্য খোলা বাজার থেকে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে চিনি সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করতে রাজ্য সরকারগুলোর প্রতি নিদ্দেশির্কা জারি করা হয়৷ তদানুসারে আমাদের রাজ্যেও ২০১৩ সালের সেপ্ঢেম্বর মাস থেকে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে চিনি সংগ্রহ করে গণবন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে৷
পাশাপাচ্িশ এই নতুন পদ্ধতি শুরু হওয়ার পর থেকে ২০১৫ সালের জুন মাস অবধি কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য কেজি প্রতি ১৩৫০ টাকা দামে চিনি সরবরাহ করতে হয়৷ যার ফলে কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক কেজি প্রতি ১৮৫০ হারে ভর্তুকী দেওয়া স্বত্ত্বেও চিনি সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বরাদ্দের জন্য (পরিবহন ব্যয় ও ডিলার কমিশন সহ) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে ৪৩৫ কোটি টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে ৭৩৪ কোটি টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে (এপ্রিল -জুন) ১৮৬ কোটি টাকা ভর্তুকী হিসাবে ব্যয় করা হয়েছে৷ ২০১৫ সালের জুলাই মাস থেকে কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক রাজ্য সরকাগুলোকে চিনি সংগ্রহ এবং আনুষঙ্গিক পরিবহণ, ডিলা কমিশন বাবদ মোট খরচের ভিত্তিতে চিনির বিক্রয়মূুল্য স্থির করার আধিকার দেওয়া হয়েছিল৷ তারপর থেকে কেজি প্রতি ১৮৫০ টাকা হারে রাজ্যের মাসিক বরাদ্দ ২০৪৭ মেটন এর ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ভর্তুকীর পরিমানের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে না লাভ না ক্ষতির ভিত্তিতে জনসাধারণের জন্য চিনি সরবরাহ করা হচ্ছে, বর্তমান যা কেজি প্রতি ২৬০০ টাকা দামে জনসাধারণ রেশন কোদান থেকে সংগ্রহ করছেন৷
কেন্দ্রীয় সরকারের ২০১৭-১৮ সালের জাতীয় বাজেট ঘোষণায় বর্তমান অর্থ বছরে চিনি সরবরাহ বাবদ প্রয়োজনীয় ভর্তুকীর কোন সংস্থান রাখা হয়নি এবং কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক এখনও এবিষয়ে সুনিদিষ্ট কোন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি৷ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ককে দফায় চিনির জন্য কেন্দ্রীয় ভর্তুকী চালু রাখার জোরালো দাবি জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে৷ যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ভতুকী চালু রাখার বিষয়ে এখনও কোন নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি৷ শুধুমাত্র গত ২২০৩২০১৭ তারিখে কেন্দ্রীয় খাদ্য জনসংভরণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সুগার ডাইরেক্টরেটের পক্ষ থেকে চিনি সরবরাহের যোজনাটি পর্যালোচনা স্তরে আছে বলে জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক পরবর্তী নির্দেশিকা জারি করা অবধি অপেক্ষা করতে অনুরোধ করা হয়েছে৷ মার্চ মাসের স্বাভাবিক বরাদ্দ সরবরাহ করার পর রাজ্যের খাদ্য গুদামগুলোতে কিছু পরিমান চিনি (প্রায় ১৮০০ মেটন) মজুত ছিল, যা দিয়ে চলতি এপ্রিল মাসে বরাদ্দ কিছুটা কমিয়ে সকল শ্রেণীর শেনকার্ডধারী ভোক্তাদের জন্য মাথাপিছু ৫০০ গ্রাম হারে চিনি সরবরাহ করা হচ্ছে৷
এই অবস্থায় এটা ধারণা হচ্ছে যে, কেন্দ্রীয় সরকার একতরফা ভাবে বর্তমান অর্থবর্ষ থেকে গণবন্টন ব্যবস্থায় চিনি সরবরাহের দীর্ঘ প্রচলিত পদ্ধতি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে৷ যার ফলে আগামী মে মাস থেকে রাজ্যে গণবন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে চিনি সরবরাহের প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় ভর্তুকী প্রত্যাহারের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে৷ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ভতুর্কী ছাড়া বর্তমান বিক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে চিনি সরবরাহ করতে গেলে মাসে প্রায় ৫৪২ কোটি টাকা অর্থাৎ বছরে প্রায় ৬৫০৫ কোটি টাকা ভর্তুকী হিসাবে বরাদ্দ করতে হবে৷ রাজ্যের সীমিত আর্থিক ক্ষমতার মধ্যে থেকে এই ভর্তুকীর সংস্থান করা অসম্ভব৷ খাদ্য, জনসংভরণ ও ক্রেতাস্বার্ত বিষয়ক দপ্তর থেকে এই সংবাদ জানানো হয়েছে৷