নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩১ মার্চ৷৷ উদয়পুর-গর্জি রুটে রেল লাইনের সুরক্ষা পর্য্যবেক্ষণ শুক্রবার সম্পন্ন হয়েছে৷ সেফটি কমিশনার সৈলেশ পাঠক এদিন উদয়পুর থেকে গর্জি পর্যন্ত রেল লাইনের সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন৷ বিকালে সাংবাদিক সম্মেলনে শ্রীপাঠক জানান, রেল লাইন নির্মাণের কাজ যথেষ্ট সন্তোষজনক৷ গুনমান অনুযায়ী খুব ভাল কাজ হয়েছে৷ আজ ১২০ কিমি প্রতি ঘন্টা গতিতে রেল চালানো হয়েছে৷ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সিগন্যালিং ব্যবস্থার কারণে এই রুটে ২০০ কিমি প্রতি ঘন্টা গতিতে রেল চলতে পারবে৷ ল্যাবেল ক্রসিংয়ে নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে উদয়পুর থেকে গর্জি পর্যন্ত কোন ল্যাবেল ক্রসিং নেই৷ ছয়টি রোড ওভার ব্রিজ এবং ছয়টি রোড আন্ডার ব্রিজ রয়েছে এই রুটে৷ তিনি জানান, আগামীকাল দিল্লী ফিরে গিয়েই তিনি সুরক্ষা সংক্রান্ত চূড়ান্ত অনুমতি পত্রে স্বাক্ষর করবেন৷ ফলে, এই রুটে রেল চালানোর সবুজ সংকেত এদিন সেফটি কমিশনার দিয়েছেন৷ তাতে কবে নাগাদ রেল চলতে পারে এই প্রশ্ণে তিনি জানান, সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে৷ তা ছয় সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যাবে৷ এরপর আনুষ্ঠানিক ভাবে ঐ রুটে রেল চালানোর ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতা থাকবে না৷ অবশ্য এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে রেলওয়ের অপারেশন বিভাগ৷
প্রসঙ্গক্রমে শ্রীপাঠক জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সাব্রুম পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন হবে৷ তার আগেই সম্পন্ন হতে পারে৷ তবে, সময়সীমা পিছিয়ে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই৷ আগরতলা থেকে সাব্রুম পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণে মোট ১১৫০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে৷ এদিন তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামী মার্চের মধ্যে গর্জি থেকে বিলোনীয়া পর্যন্ত ২৫ কিমি রেল লাইনের সুরক্ষা পর্য্যবেক্ষণ সম্পন্ন হবে৷ পরবর্তী পর্য্যায়ে বিলোনীয়া থেকে সাব্রুম পর্যন্ত ৪৪ কিমি রেল লাইনে সুরক্ষা পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন হবে৷ আগরতলা থেকে সাব্রুম পর্যন্ত মোট ১১৪ কিমি রেলপথ নির্মাণ হচ্ছে৷ তিনি আরও জানিয়েছেন, বিলোনীয়া থেকে জোলাইবাড়ি পথে ৬০০ মিটার দীর্ঘ এবং গর্জি থেকে শান্তিরবাজার পথে ১৭০ মিটার দীর্ঘ দুটি ট্যানেল রয়েছে৷ এদিন তিনি পূর্বোত্তর সীমান্ত রেলওয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন৷ গত আড়াই বছরে পূর্বোত্তর সীমান্ত রেলওয়ে যে কাজ করেছে তা তার আগের পাঁচ বছরেও হয়নি৷ গত আড়াই বছরে ৬৪৭ কিমি নতুন রেলপথ পূর্বোত্তরে নির্মাণ হয়েছে৷ যা সারা দেশের তুলনায় যথেষ্ট প্রশংসনীয়৷
2017-04-01

