ত্রিপুরা

ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে তিপরা মথার বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ আইপিএফটির, এনডিএ-র অভিভাবক নিয়ে প্রশ্ন স্বপন দেববর্মার

আগরতলা, ৯ অক্টোবর:
ভিলেজ কমিটি নির্বাচন শেষ হতেই এনডিএ জোটের অন্দরে টানাপোড়েন প্রকাশ্যে। আসন সমঝোতা নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে নয়, বরং তিপরা মথার বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলল আইপিএফটি। একই সঙ্গে টিটিএএডিসি নির্বাচনে আইপিএফটিকে পরিকল্পিতভাবে পরাজিত করার অভিযোগও সামনে আনলেন দলের সাধারণ সম্পাদক স্বপন দেববর্মা।

শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে স্বপন দেববর্মা দাবি করেন, ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের আগে এনডিএ জোটের আসন সমঝোতা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বিজেপি ২০ শতাংশ এবং তিপরা মথা ৮০ শতাংশ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। পাশাপাশি উভয় দলই নিজেদের ভাগ থেকে কিছু আসন আইপিএফটিকে ছেড়ে দেবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

কিন্তু নির্বাচনের সময় সেই সমঝোতা পুরোপুরি কার্যকর করা হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। স্বপন দেববর্মার বক্তব্য, বিজেপি আইপিএফটিকে কিছু আসন দিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেও তিপরা মথা সেই প্রতিশ্রুতি পালন করেনি। তাঁর মতে, নির্বাচনে রাজনৈতিকভাবে জয়লাভ করা সম্ভব হলেও বৃহত্তর অর্থে তিপ্রাসাদের পরাজয় হয়েছে।
শুধু ভিলেজ কমিটি নির্বাচন নয়, টিটিএএডিসি নির্বাচনেও আইপিএফটিকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, রেগিংয়ের মাধ্যমে আইপিএফটিকে পরাজিত করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তিপরা মথার বক্তব্য জানা যায়নি।
এনডিএ জোটের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আইপিএফটির সাধারণ সম্পাদক। তিনি স্পষ্ট জানান, আইপিএফটি বিজেপির সঙ্গে জোটে রয়েছে, তবে তিপরা মথার সঙ্গে তাদের কোনও জোট নেই। পাশাপাশি রাজ্যে এনডিএ-র কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দ্রুত একটি কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে জোটের মধ্যে সমন্বয় ও নেতৃত্বের অভাবের বিষয়টিও উঠে আসে।

এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে স্বপন দেববর্মা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও সরব হন। তাঁর দাবি, এসআইআর-এর ফর্ম যথাযথভাবে সামনে আনা হলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে এত বড় আন্দোলন গড়ে উঠত না। রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সঠিক ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার দাবিও জানান তিনি।

ভিলেজ কমিটি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আইপিএফটির এই অবস্থান ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিজেপি, তিপরা মথা ও আইপিএফটির পারস্পরিক সম্পর্ক আগামী দিনে কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।