ইম্ফল, ৩০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মণিপুরের ৩৬টি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের স্বপ্ন দেখেছিলেন জননেতা হিজাম ইরাবত। তাঁর ১৩০তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানিয়ে বুধবার এই কথা বলেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী যুমনাম খেমচাঁদ সিং।
ইম্ফলের ইরাবত স্কোয়ারে আয়োজিত রাজ্যস্তরের ‘জননেতা হিজাম ইরাবত দিবস ২০২৬’-এর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইরাবতের ঐক্য, সামাজিক ন্যায় এবং সম্মিলিত অগ্রগতির আদর্শ মণিপুরের মানুষের পথ দেখিয়ে চলবে। সরকারি কর্মী, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং ছাত্রছাত্রীদের তাঁর ত্যাগ, সেবা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের চেতনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ইরাবতের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মণিপুরের ইতিহাসে হিজাম ইরাবত ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি সাহিত্য ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। ১৯২২ সালে তিনি ‘মেইতেই চানু’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন, যার মাধ্যমে মণিপুরের সমাজ ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন।
ইরাবতের ব্যক্তিগত ত্যাগের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজপরিবারে বিয়ে এবং তার সঙ্গে যুক্ত সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা পাওয়ার পরও তিনি সেসব ত্যাগ করে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার পথ বেছে নিয়েছিলেন বলে জানান খেমচাঁদ সিং। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মানুষকে সংগঠিত করা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য কাজ করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে শিল্প ও সংস্কৃতি এবং পর্যটনমন্ত্রী খুরাজাম লোকেন সিং, একাধিক বিধায়ক, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. রাজকুমার রঞ্জন সিং, প্রাক্তন সাংসদ ড. লোরহো এস. ফোজে, মুখ্যসচিব রাজীব সিং ঠাকুর-সহ সরকারি আধিকারিক, পুলিশ, ছাত্রছাত্রী ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জননেতা হিজাম ইরাবত, যিনি ইরাবত নামেও পরিচিত, ১৮৯৬ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। ‘লামইয়াম্বা’ নামে শ্রদ্ধেয় এই সমাজসংস্কারক, রাজনৈতিক নেতা ও স্বাধীনতা সংগ্রামী দরিদ্র, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার এবং সামাজিক ন্যায়ের জন্য কাজ করেছিলেন।
























