আইজল, ৩০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মিজোরামে ৮৪৬ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদক বাজেয়াপ্ত করেছে নিরাপত্তা বাহিনী ও মিজোরাম পুলিশ। এই সময়ের মধ্যে মাদক সংক্রান্ত মামলায় ৯৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, গ্রেফতার হওয়া ৯৩০ জনের মধ্যে ১১১ জন বিদেশি নাগরিক, যাদের অধিকাংশই মিয়ানমারের নাগরিক। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাদকদ্রব্য ও মনঃপ্রভাবী পদার্থ আইন (NDPS Act), ১৯৮৫-এর অধীনে মোট ৬৩৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত মিজোরামে মাদক সেবনের কারণে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাতজন মহিলা। ২০২৫ সালে মাদক সেবনের কারণে রাজ্যে ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যার মধ্যে ১৮ জন মহিলা ছিলেন।
মিয়ানমারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর মাদক পাচার ও মাদক সেবন রুখতে রাজ্য সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি অভিযান আরও জোরদার করেছে।
আইজলে মাদকবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচিতে মিজোরামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে. সাপডাঙ্গা বলেন, মিজোরামকে মাদকের ‘গেটওয়ে’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মাদক পাচারকারীদের পাশাপাশি এই বেআইনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি সীমান্ত এলাকায় অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি মাদকাসক্তদের প্রতি সহানুভূতি ও যত্নের সঙ্গে আচরণ করে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উপরও গুরুত্ব দেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে মাদকবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
মাদকমুক্ত গ্রাম গড়ার উদ্যোগের জন্য ট্লাংমাওই গ্রামের বাসিন্দাদের প্রশংসা করে সাপডাঙ্গা বলেন, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ রক্ষায় পরিবার, চার্চ, এনজিও এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ ও অনেকাংশে অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে মিজোরাম ও মণিপুর উত্তর-পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ মাদক পাচারের করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।



















