জলন্ধর, ২৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): লভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি (এলপিইউ)-তে হিংসাত্মক ছাত্র বিক্ষোভের পর পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক গৌরব যাদবকে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগ ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাই না-করা দাবিকে কেন্দ্র করে দু’দিন আগে এলপিইউ-তে বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তিতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি ক্যাম্পাসের কয়েকটি জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।
বিক্ষোভকারীরা দিল্লি-অমৃতসর জাতীয় সড়কও অবরোধ করেন। এর ফলে ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ জাতীয় সড়ক-৪৪-এ যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১০ দিনের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত পরীক্ষাগুলিও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবিকে ঘিরে, যেখানে বলা হয়েছিল এক মহিলা পড়ুয়াকে ধর্ষণের পর তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এলপিইউ কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের এক জনের বক্তব্যের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
জলন্ধর রেঞ্জের ডিআইজি নবীন সিংলা জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করা হয়েছে। হস্টেলের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত এফআইআরে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পড়ুয়াদের শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছে। যারা হস্টেল বা অন্য আবাসনে রয়েছেন, তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর এবং কোনও ধরনের অশান্তিতে জড়িয়ে না পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এলপিইউ-র পাশাপাশি চিতকারা বিশ্ববিদ্যালয়েও বিক্ষোভের ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিশেষ ডিজিপি (আইনশৃঙ্খলা) প্রবীণ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজ্য সরকার পুলিশকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি এলপিইউ-কে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলি প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।



















