আগরতলা, ২৭ সেপ্টেম্বর: গাড়ি ভাড়া দেওয়ার পর মালিকের অজান্তে তা অন্যের কাছে বন্ধক রেখে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের সংবাদ শিরোনামে আমতলী থানা। এই ঘটনায় গাড়ির মালিক কর্ণজিৎ ভৌমিক আমতলী থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গাড়ি উদ্ধারে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি পুলিশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, আমতলী থানার অন্তর্গত চারিপাড়া শিবনগর এলাকার বাসিন্দা কর্ণজিৎ ভৌমিকের টিআর-০১-সিএফ- ০৫২০ নম্বরের একটি মারুতি গাড়ি ফুলতলী এলাকার আশিস মিয়াকে ভাড়ায় দিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে আশিস মিয়া তাঁর এক ভাগিনার মাধ্যমে গাড়িটি মণিপুরের ইম্ফলের এক যুবকের কাছে এগ্রিমেন্ট দলিলের ভিত্তিতে বন্ধক রাখেন বলে অভিযোগ। অথচ এই বিষয়ে গাড়ির মালিক কর্ণজিৎ ভৌমিককে কিছুই জানানো হয়নি। মালিকের দাবি, তাঁর অনুমতি ছাড়াই পরিকল্পিতভাবে গাড়িটি বন্ধক রেখে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
বিষয়টি জানতে পেরে কর্ণজিৎ ভৌমিক আশিস মিয়ার কাছে এর ব্যাখ্যা জানতে চান। কিন্তু তিনি সন্তোষজনক কোনও উত্তর পাননি বলে অভিযোগ। এরপর প্রায় চার মাস আগে প্রথমে আমতলী থানায় জিডি এন্ট্রি করেন তিনি। পরবর্তীতে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ-সহ লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন।
কর্ণজিৎ ভৌমিকের অভিযোগ, অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ তাঁকে দ্রুত তদন্ত করে গাড়িটি উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু তাঁর দাবি, দেড় মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও গাড়ি উদ্ধারে কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। একাধিকবার থানায় গিয়েও তিনি পুলিশের কাছ থেকে সন্তোষজনক উত্তর পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। এমনকি, বিষয়টি মীমাংসা করার প্রস্তাবও পুলিশের তরফে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।
গাড়ির মালিকের আরও অভিযোগ, এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৬(২), ৩১৬(৫), ৩১৮(৪) ও ৩১৪ ধারার প্রাসঙ্গিকতা খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত পুলিশ গাড়িটি উদ্ধারের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি বলে তাঁর দাবি। এই পরিস্থিতিতে আমতলী থানার ওসি ইন্সপেক্টর রানা চ্যাটার্জির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
রবিবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়ে নিজের ক্ষোভ ও অসহায়তার কথা তুলে ধরেন কর্ণজিৎ ভৌমিক। তিনি জানান, গাড়িটি ঋণের কিস্তিতে কেনা। গাড়ির কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় প্রতিনিয়ত তাঁর বাড়িতে ঋণ আদায়কারী সংস্থার লোকজন আসছেন। অথচ গাড়িটি তাঁর কাছে না থাকায় তিনি আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও জানান তিনি। এমনকি, গাড়িটি ফিরে না পেলে আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনও পথ খোলা থাকবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিন পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কর্ণজিৎ ভৌমিকের দাবি, তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং মণিপুরের ইম্ফল থেকে গাড়িটি উদ্ধার করে তাঁর হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।



















