কৈলাসহর, ২৬ সেপ্টেম্বর: মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের দাবিতে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ঊনকোটি জেলা পুলিশ সুপারের কাছে ডেপুটেশন দেওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। কুমারঘাট শহরে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার নেশাসামগ্রী উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের বড়সড় সাফল্য পেল ঊনকোটি জেলা পুলিশ। এবার জেলা সদর কৈলাশহরের চিনিবাগান নাকা পয়েন্ট থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার নিষিদ্ধ ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
অভিযানে একটি বিলাসবহুল গাড়িও আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি কৈলাশহরের শ্রীনাথপুর এলাকার দুই ব্যক্তিকে মাদক কারবারের অভিযোগে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া ফেনসিডিলের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরেই ঊনকোটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে ফেনসিডিল, ড্রাগস, বার্মিজ সিগারেট-সহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ সামগ্রী পাচারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দিনের পর দিন বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে এই কারবার চললেও এতদিন কার্যকরভাবে তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে স্থানীয়দের একাংশ আরও অভিযোগ করেছেন, কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণেই মাদক কারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনও সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
চিনিবাগান নাকা পয়েন্ট এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, পুলিশের অভিযানে মাদকসামগ্রী আটক হওয়া নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু একই রুট দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার চলছে বলে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত নজরদারি কেন করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, শুধু মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে মাদক কারবার বন্ধ করা সম্ভব নয়। পাচারের মূল চক্র এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ধারাবাহিক অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক পাচারচক্রের আরও তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।


















