নিউইয়র্ক, ২৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে আগাম প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলার ওপর জোর দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত নয়াদিল্লি ঘোষণার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআইয়ের সম্পদ সকলের জন্য সহজলভ্য করা, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা, মানবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক কল্যাণে প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ওই ঘোষণায়।
শনিবার গ্রিসের বিদেশমন্ত্রী জর্জ গেরাপেত্রিতিসের সঙ্গে ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে এআই, বিশেষ গুরুত্ব সামুদ্রিক নিরাপত্তায়’ শীর্ষক একটি অধিবেশনে সহ-সভাপতিত্ব করার সময় এই মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর।
তিনি বলেন, এআইয়ের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর পরিণতি সম্পর্কে আগাম ধারণা তৈরি এবং ঝুঁকি কমানোর প্রয়োজন রয়েছে। উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি এর নিরাপত্তাগত প্রভাবের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
সামুদ্রিক ক্ষেত্রে এআইয়ের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে জয়শঙ্কর বলেন, এই প্রযুক্তি সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, দুর্যোগ মোকাবিলা, সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্তকরণ এবং বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
একইসঙ্গে এআইয়ের মাধ্যমে উন্নত নজরদারি, দুর্বলতা চিহ্নিতকরণ এবং জাহাজ, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও সমুদ্রের তলদেশের পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে সাইবার অভিযান চালানোর সক্ষমতাও তৈরি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জয়শঙ্কর বলেন, সামুদ্রিক ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়তার মাত্রা বাড়লে দায় নির্ধারণ, জবাবদিহি এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির মতো প্রশ্ন সামনে আসছে। একইসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও কমে আসছে। তাঁর মতে, সামুদ্রিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রগুলির আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রসংঘের সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে সমুদ্র আইন, গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হিসেবে থাকবে।
এআই যাতে এই নীতিগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি ও ব্যবহার করা হয়, তা নিশ্চিত করতে আরও স্বচ্ছতা, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির উদ্যোগ, সক্ষমতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং সর্বোত্তম পদ্ধতি বিনিময়ের ওপরও জোর দেন বিদেশমন্ত্রী।
রাষ্ট্রসংঘে এআই এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবেই থাকবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।



















