নিউইয়র্ক, ২৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মহামারি প্রতিরোধ ও মোকাবিলা নিয়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্যান্ডেমিক অ্যাগ্রিমেন্টের আওতায় ন্যায্য প্যাথোজেন অ্যাক্সেস অ্যান্ড বেনিফিট শেয়ারিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে সওয়াল করলেন ভারতের স্বাস্থ্যসচিব পুণ্য সালিলা শ্রীবাস্তব। শনিবার এক সরকারি বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, যে দেশগুলি প্যাথোজেন ও জৈবিক সম্পদ সরবরাহ করে, তাদের সময়মতো ভ্যাকসিন, রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জাম, চিকিৎসা পদ্ধতি, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সুফল পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকা প্রয়োজন।
শ্রীবাস্তব আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য নিরাপত্তা জোরদারের প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থিতিস্থাপক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর তিনি জোর দেন।
তিনি বলেন, এই প্রচেষ্টা অবশ্যই জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। আন্তর্জাতিক সহায়তা জাতীয় দায়বদ্ধতার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, মহামারি প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় সরকার এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরকে যুক্ত করে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে ভারত। পরীক্ষাগার নেটওয়ার্ক, জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বয় ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রয়োজনীয় মজুত এবং চিকিৎসা পরিষেবার সক্ষমতা বাড়ানোর মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ চলছে।
কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ভারতের অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে শ্রীবাস্তব ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারকে বৈশ্বিক জনসাধারণের সম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান। মহামারির সময় নজরদারি, টিকাকরণ, ঝুঁকি সংক্রান্ত যোগাযোগ, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা অব্যাহত রাখতে ডিজিটাল প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভারত প্রায় ১০০টি দেশ এবং রাষ্ট্রসংঘের দুটি সংস্থাকে ৩০ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ সরবরাহ করেছিল। পাশাপাশি ১৫০টিরও বেশি দেশকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। ‘ওয়ান আর্থ, ওয়ান হেলথ’ এবং গ্লোবাল সাউথের প্রতি ভারতের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবেই এই উদ্যোগগুলির কথা তুলে ধরা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস কোভিড-১৯-এর পর বিশ্ব স্বাস্থ্য নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহামারী চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালা -এর সংশোধনও রয়েছে।
তিনি পিএবিএস ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, আলোচনায় বিলম্ব হলে ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলায় বিশ্বের সক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে।
________



















