কোহিমা, ২৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): নাগা ঐতিহ্য সংরক্ষণ শুধুমাত্র বস্তুগত নিদর্শন রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। এর সঙ্গে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক চর্চাকেও সংরক্ষণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল নন্দ কিশোর যাদব।
শুক্রবার চুমৌকেদিমায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জোনাল কালচারাল সেন্টার (এনইজেডসিসি)-এর সদর দফতরে দুটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। বই দুটি হল আলোক কুমার কানুঙ্গো ও আলিনো সুমি রচিত ‘নাগাস: দ্য নলেজ প্র্যাকটিশনার্স’ এবং সেনটিলা টি. ইয়াঙ্গার রচিত ‘নাগাল্যান্ড টেক্সটাইলস – থ্রেডস দ্যাট উইভ স্টোরিজ’।
রাজ্যপাল বলেন, বিষয়বস্তু আলাদা হলেও দুটি বইতেই নাগা জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও জ্ঞানচর্চাকে গবেষণা এবং সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, সংস্কৃতিকে এমন একটি জ্ঞানভাণ্ডার হিসেবে দেখতে হবে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সৃষ্টি, চর্চা, পরিমার্জন এবং হস্তান্তরের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে।
‘নাগাস: দ্য নলেজ প্র্যাকটিশনার্স’ বইটির প্রসঙ্গে যাদব বলেন, আদিবাসী জ্ঞানকে শুধুমাত্র লোককথা হিসেবে দেখা উচিত নয়। পর্যবেক্ষণ, অভিজ্ঞতা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে এই জ্ঞান গড়ে উঠেছে। কৃষি, হস্তশিল্প, প্রযুক্তি, বন, প্রাকৃতিক সম্পদ, আচার-অনুষ্ঠান এবং বস্তুগত সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান মূল্যবান জ্ঞানব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নাগা বস্ত্র নিয়ে প্রকাশিত বইটির প্রসঙ্গে রাজ্যপাল বলেন, নাগা শাল শুধুমাত্র একটি কাপড় নয়। এর সঙ্গে পরিচয়, স্মৃতি, সামাজিক তাৎপর্য এবং শিল্পচেতনা জড়িয়ে রয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের রং, নকশা, মোটিফ এবং বয়ন কৌশলের মধ্যে তাদের নিজস্ব জ্ঞান ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন দেখা যায়।
ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের যথাযথ নথিবদ্ধকরণের উপরও গুরুত্ব দেন তিনি। রাজ্যপাল বলেন, এই ধরনের নথি গবেষক, শিক্ষার্থী, কারিগর, জাদুঘর এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের পরিচয়, মালিকানা, মর্যাদা এবং মেধাস্বত্বের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই এই নথিবদ্ধকরণ করতে হবে।
বর্তমান সময়ে ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের গুরুত্ব তুলে ধরে যাদব বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যেন সাংস্কৃতিক বিস্মৃতির কারণ না হয়। তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষা ও প্রযুক্তির সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান সম্পর্কেও অবগত হতে হবে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, টেকসই কৃষি, প্রাকৃতিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং টেকসই জীবিকার মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেখাতে পারে। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার পরিবর্তে দুটির মধ্যে অর্থবহ সংলাপ তৈরি করাই মূল চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাগা জ্ঞান ও ঐতিহ্য নথিবদ্ধ করার কাজে যুক্ত গবেষক, প্রতিষ্ঠান, ক্ষেত্রকর্মী, কারিগর এবং প্রবীণদের প্রশংসা করেন রাজ্যপাল। নাগাল্যান্ডের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে এই ধরনের প্রকাশনা আরও বেশি ব্যবহার করার আহ্বান জানান তিনি।
ভাষা, মৌখিক ঐতিহ্য, স্থাপত্য, কৃষি, ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা, সংগীত, বস্ত্র, কারুশিল্প এবং প্রথাগত প্রতিষ্ঠান নিয়ে তরুণ নাগা গবেষকদের আরও গবেষণায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান যাদব। পাশাপাশি, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের চর্চাকারীদের প্রজন্ম শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই গ্রামস্তরে এই জ্ঞান নথিবদ্ধ করার উপর জোর দেন তিনি।
এনইজেডসিসির অধিকর্তা আলোবো নাগা বলেন, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান, লোকাচার, আদিবাসী শিল্পরীতি এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নথিবদ্ধ করতে এনইজেডসিসি গবেষক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সহায়তা করে আসছে। এই ধরনের উদ্যোগ নাগা সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিভিন্ন দিক সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে সহায়ক বলে জানান তিনি।



















