আগরতলা, ২২ সেপ্টেম্বর: আসন্ন শারদ উৎসবের আগে বিভিন্ন পেশার শ্রমিকদের বোনাস ও অনুদান বা এক্সগ্রেশিয়া দ্রুত প্রদানের দাবিতে পথে নামল সিআইটিইউ। আহ আগরতলায় সিআইটিইউ কার্যালয়ের সামনে থেকে শ্রমিকদের মিছিল বের হয়। পরে মিছিলটি শ্রম কমিশনারের দপ্তরে গিয়ে গণডেপুটেশন প্রদান করে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সিপিআই(এম) নেতা মানিক দে, সিআইটিইউ নেতা শংকর প্রসাদ দত্ত সহ অন্যান্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষ।
সিপিআই(এম) নেতা মানিক দে বলেন, পুজোর আগে শ্রমিকদের বোনাস ও এক্সগ্রেশিয়া প্রদানের দাবি সিআইটিইউ দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছে। তাঁদের দাবি, বোনাস আইনের আওতাভুক্ত শ্রমিকদের ন্যূনতম ৮.৩৩ শতাংশ হারে বোনাস প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি যেসব শ্রমিক বোনাস আইনের আওতায় পড়েন না, তাঁদেরও পুজোর আগে এক্সগ্রেশিয়া বা উৎসব অনুদান দিতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও শ্রমিকদের আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। চিনি, সর্ষের তেল, ডাল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির কারণে শ্রমজীবী মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। রেশন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষ পর্যাপ্ত সামগ্রী পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করা হয়।
চা-বাগানের শ্রমিকদের প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত বছর অনেক চা-বাগানে প্রায় ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়া হয়েছিল। এবার উৎপাদন বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বোনাস দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রমকোড নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, নতুন শ্রমকোডের মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। শ্রমিক স্বার্থবিরোধী এই শ্রমকোড বাতিলের দাবিতে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
তিনি জানান, পুজোর অন্তত ২০ দিন আগে শ্রমিকদের বোনাস ও এক্সগ্রেশিয়া প্রদানের বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন করে তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে কি না, শ্রম দপ্তরকে তা তদারকি করতে হবে। কোনও শ্রমিক নির্ধারিত বোনাস বা অনুদান না পেলে বিষয়টি শ্রমিক সংগঠনের নজরে আনার পাশাপাশি সরাসরি শ্রম দপ্তরে অভিযোগ জানানোর আহ্বানও জানানো হয়।
।।।।



















