মুম্বই, ১৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) বম্বের দ্বিতীয় বর্ষের এক পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায় পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে মুম্বই পুলিশ। শনিবার পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় আইআইটি বম্বের পওয়াই ক্যাম্পাসে ওই পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার হয়। পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগে কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের মধ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়।
গত ছয় মাসে আইআইটি বম্বের পওয়াই ক্যাম্পাসে এটি তৃতীয় আত্মহত্যার ঘটনা বলে জানা গিয়েছে। এদিনের শুরুতে ঘটনাটি নিয়ে একটি অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট (এডিআর)-ও দায়ের করা হয়েছিল।
মৃত পড়ুয়ার নাম সাহিল ওয়াকোডে। মহারাষ্ট্রের ইয়বতমাল জেলার বাসিন্দা সাহিল আইআইটি বম্বের এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া ছিলেন। তাঁর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা মুম্বইয়ে পৌঁছেছেন। পরিবারের সদস্যদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের অন্যান্য পড়ুয়ারও বক্তব্য নিচ্ছে পুলিশ। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
আইআইটি বম্বের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা চলাকালীন উত্তর পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাহিল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ছবি বা বিষয়বস্তু চ্যাটজিপিটিতে আপলোড করেছিলেন। তবে এই ঘটনার পর তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আইআইটি বম্বে জানিয়েছে, পরীক্ষার ইনস্ট্রাক্টর এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান তাঁর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তাঁকে কাউন্সেলিং করা হয় এবং আশ্বস্ত করা হয় যে এই ঘটনার কারণে তাঁর শিক্ষাজীবনে কোনও বিরূপ প্রভাব পড়বে না। এরপর সাহিল নিজের হস্টেল কক্ষে ফিরে যান। পরে সন্ধ্যায় তাঁর কক্ষে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এক বিবৃতিতে আইআইটি বম্বে পড়ুয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই ঘটনায় প্রভাবিত তাঁর বন্ধু, সহপাঠী, শিক্ষক এবং অন্যান্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে বলেও জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর একদল পড়ুয়া ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, সাহিলের মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশাসনের তরফে সব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কয়েকজন বিক্ষোভকারী দাবি করেন, পরীক্ষার ঘটনার জেরে সাহিলকে এক বছরের জন্য সাসপেন্ড করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের আরও দাবি, এমন শাস্তি হলে তাঁকে হস্টেল ছেড়ে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হতে পারত।
বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের আরও দাবি, এই ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ফলে তাঁর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স নির্ধারিত চার বছরের পরিবর্তে আরও দীর্ঘ হতে পারত। তাঁদের অভিযোগ, সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে ভয় ও মানসিক চাপ সাহিলের মৃত্যুর ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। তবে এই দাবিগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিক্ষোভের পর ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আরও তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
—আইএএনএস



















