মুম্বই, ১৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সিদ্ধান্তমূলক ও জনমুখী নেতৃত্বের প্রশংসা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রবিবার দাবি করেছেন, এই সময়ে ভারতের রাজনৈতিক পরিসর থেকে বংশবাদ, জাতপাতের রাজনীতি এবং দুর্নীতির মতো তিনটি সুগভীর ‘অশুভ শক্তির’ অবসান ঘটেছে। এর পরিবর্তে দেশে ‘কাজের ভিত্তিতে রাজনীতি’ বা ‘পারফরম্যান্সের রাজনীতি’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মুম্বইয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর রূপরেখা তুলে ধরার সময় অমিত শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনব্যবস্থার মূল লক্ষ্য থেকেছে পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক মানুষের ‘সেবা’। জনসেবার এই লক্ষ্যকেই সামনে রেখে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ পরিচালিত হবে।
অমিত শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই নরেন্দ্র মোদি লালকেল্লার প্রাচীর থেকে নিজেকে দেশের ‘প্রধান সেবক’ হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং গত কয়েক বছর ধরে সেই ভাবনাকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন। তিনি দেশের ১৪০ কোটি মানুষকে ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং ২০৪৭ সালের ১৫ আগস্টের মধ্যে সেই লক্ষ্য অর্জনে সকলকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে খুব কম নেতাই এতটা স্বতন্ত্রভাবে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর দাবি, মোদি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
অমিত শাহের কথায়, বর্তমানে ৫৪ কোটি মানুষের ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করছে। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর প্রথমবার ১৬ কোটি পরিবারে কলের মাধ্যমে পানীয় জল পৌঁছেছে। পিএম-কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের আওতায় ১৩ কোটি কৃষক বছরে ৬ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। পাশাপাশি ১৩ কোটি বাড়িতে শৌচালয় নির্মাণের মাধ্যমে ওই পরিবারগুলির মা ও মেয়েদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জিএসটি চালুর ফলে ১৬ ধরনের পৃথক ক্রয়কর বিলুপ্ত হয়েছে এবং ‘এক দেশ, এক কর’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। জনধন, আধার ও মোবাইলের সমন্বয়ে গঠিত ‘জ্যাম ত্রয়ী’ ডিজিটাল প্রশাসনের শক্ত ভিত তৈরি করেছে। ব্যাংকিং ক্ষেত্রে সংস্কারের মাধ্যমে ভারত এনপিএ সংকট থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে ফের লাভজনক করে তোলা সম্ভব হয়েছে।
অমিত শাহের দাবি, রেকর্ড পরিমাণ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), উৎপাদন-ভিত্তিক প্রণোদনা (পিএলআই) এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি ভারতকে বিশ্বস্ত উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। একইসঙ্গে সড়ক, রেলপথ, বিমানবন্দর, মেট্রো, বন্দর, জলপথ এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো উন্নয়নের গতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু দরিদ্র পরিবারগুলির জীবনযাত্রার মান উন্নত করাই নয়, ভারতকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যেও সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছে। পাশাপাশি সংবিধানপ্রদত্ত ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আরও সুসংহত করা এবং কয়েক দশক ধরে জটিল ও গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা বিভিন্ন সমস্যার সমাধানেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
–আইএএনএস



















