তেলিয়ামুড়া, ১৩ সেপ্টেম্বর: দুই জনজাতি যুবকের মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ময়নাতদন্ত না করার দাবিতে হাসপাতালের মর্গের সামনে জড়ো হন মৃতদের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পরিস্থিতি ঘিরে তৈরি হয় টানটান উত্তেজনা। পরে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্তে সম্মতি জানান পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় তেলিয়ামুড়া থানাধীন মহকুমা শাসকের কার্যালয় সংলগ্ন আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কের জারুইলংবাড়ি এলাকায় ভয়াবহ বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় সঞ্জয় দেববর্মা ও বিশু কুমার দেববর্মা নামে দুই যুবকের। দুর্ঘটনার পর থেকেই কীভাবে এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
রবিবার সকালে সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে দুর্ঘটনার পর তেলিয়ামুড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারকে ঘিরে উপস্থিত মানুষের একাংশের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অনেকের ধারণা ছিল, ওই বক্তব্যটি শনিবারের দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দেওয়া হয়েছে। ফলে হাসপাতাল চত্বরে ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে।
পরে পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্যের প্রেক্ষিত স্পষ্ট হলে জানা যায়, ওই সাক্ষাৎকারটি বর্তমান দুর্ঘটনা নিয়ে ছিল না। এর আগে ওই এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি পৃথক দুর্ঘটনার প্রসঙ্গেই তিনি সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছিলেন। দুর্ঘটনা এড়াতে পরবর্তী সময়ে ওই এলাকায় ট্রাফিক নাকা পয়েন্ট বসানোর বিষয়টিও সেই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও ময়নাতদন্ত নিয়ে আপত্তি বজায় রাখেন মৃতদের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের দাবি, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ আগে সামনে আনতে হবে। কীভাবে বাইকটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, ঘটনাস্থলে ঠিক কী ঘটেছিল এবং এর পিছনে কোনও গাফিলতি বা অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না—তা তদন্ত করে স্পষ্ট করার পরেই ময়নাতদন্ত করা হোক।
রবিবার সকাল থেকেই পুলিশের উপস্থিতিতে হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হলে তাতেও আপত্তি জানান পরিবারের সদস্যরা। সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন থাকে। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে আলোচনা ও পরিবারের সদস্যদের বোঝানোর চেষ্টা।
পরে বেলা প্রায় ২টা নাগাদ সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিক এবং এমডিসি জিতেন দেববর্মা হাসপাতালে পৌঁছন। তাঁরা মৃতদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করার আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্তে সম্মতি জানান পরিবারের সদস্যরা।
এরপর মর্গে রাখা সঞ্জয় দেববর্মা ও বিশু কুমার দেববর্মার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া হয়।
তবে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হলেও দুর্ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রশ্নগুলি এখনও পুরোপুরি মেটেনি। কী পরিস্থিতিতে দুই যুবকের মৃত্যু হল, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ কী এবং এর পিছনে কোনও গাফিলতি বা অন্য কোনও বিষয় ছিল কি না—তা নিয়েই এখন অপেক্ষায় মৃতদের পরিবার। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তের পরই শনিবারের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।



















