নয়াদিল্লি, ১৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানালেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। বিনিয়োগ, বাণিজ্য, শিল্পোন্নয়ন এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আয়োজিত দক্ষিণ আফ্রিকা-ভারত রাউন্ডটেবিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রামাফোসা দুই দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। নীতিগত আলোচনাকে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর প্রকল্প এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে রূপ দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
রামাফোসা বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে একটি নতুন যুগের সূচনা করার জন্য তাঁরা প্রস্তুত। দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে বেসরকারি ক্ষেত্রের আরও বেশি অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি, গ্রিন হাইড্রোজেন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, পরিকাঠামো, কৃষি এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনকে দুই দেশের সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট। তাঁর মতে, দক্ষিণ আফ্রিকার খনিজ সম্পদ এবং ভারতের উৎপাদন ক্ষমতার সমন্বয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি এবং অন্যান্য শিল্পপণ্য উৎপাদনের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকার পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলিতে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও জানান রামাফোসা। তিনি জানান, দক্ষিণ আফ্রিকা পরিবহণ ব্যবস্থা, পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি, জল পরিকাঠামো এবং হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৯৫টি কৌশলগত সমন্বিত প্রকল্প চিহ্নিত করেছে। এসব প্রকল্পের সম্মিলিত মূল্য ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাবনা বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভারতীয় ব্যবসায়িক পরিষেবা সংস্থা আতাইনের কেপটাউনের নতুন কেন্দ্রের প্রসঙ্গ তুলে রামাফোসা জানান, এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকায় সংস্থাটির কর্মীসংখ্যা ১,৫০০ থেকে বেড়ে ২,০০০-এর বেশি তরুণে পৌঁছতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, দক্ষতা উন্নয়ন সংস্থা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতারও আহ্বান জানান রামাফোসা। তাঁর মতে, এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে সাহায্য করবে।
রামাফোসা বলেন, দুই দেশের অংশীদারিত্বের শক্তি কতগুলি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে তার মাধ্যমে নয়, বরং সেই চুক্তির মাধ্যমে কী ধরনের বাস্তব প্রভাব তৈরি হয়েছে, তার ভিত্তিতে বিচার করা উচিত।
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা যখন সমবেত হয়েছেন, তখনই দক্ষিণ আফ্রিকা-ভারত রাউন্ডটেবিল অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শিল্প সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
জ্বালানি রূপান্তর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, উৎপাদন, পরিকাঠামো এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়িয়ে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
—আইএএনএস



















