কলকাতা, ১৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): তৃণমূল কংগ্রেসের দুই বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে দলের নাম ও প্রতীকের দাবির বিষয়ে যুক্তি শোনার পরেও আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগে নির্বাচন কমিশন কোনও সিদ্ধান্ত নেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী-সংখ্যাগরিষ্ঠ’ গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশন শনিবার তাদের দাবির সমর্থনে আরও কিছু ব্যাখ্যা ও নথি চায়। সূত্রের খবর, শনিবার সন্ধ্যার মধ্যেই ওই গোষ্ঠী প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও নথি কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিকের সূত্রে জানা যায়, ঋতব্রত নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর জমা দেওয়া নথি ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে শনিবার রাতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল-সংখ্যালঘু’ গোষ্ঠীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে এ বিষয়ে তাদের মতামত জানতে চেয়েছে কমিশন।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীও কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে ঋতব্রত গোষ্ঠী যে নথি জমা দিয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এই নতুন পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের মতে, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর। ফলে হাতে মাত্র তিন দিন থাকায় তার মধ্যে দলের নাম ও প্রতীকের বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত হওয়া অত্যন্ত কঠিন বলে মনে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে দুই গোষ্ঠীকেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে হয় মুক্ত প্রতীকে, নয়তো কমিশনের বরাদ্দ করা প্রতীকে প্রার্থী দিতে হতে পারে।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হবে এবং ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণা করা হবে। ইতিমধ্যেই সিপিআই(এম)-এর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস দুই আসনের জন্য তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। হুমায়ুন কবীরের গড়া আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও রেজিনগর আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে, বিজেপি আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠী কবে তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
—আইএএনএস
























