নয়াদিল্লি, ১২ সেপ্টেম্বর(আইএএনএস): ভারত ও চিনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক অগ্রগতিকে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবার নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তাঁরা মতপার্থক্যকে কোনওভাবেই বিবাদে পরিণত না করার উপর জোর দেন। একই সঙ্গে ভারত ও চিনের সম্পর্ককে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁরা সহমত পোষণ করেন।
বৈঠকের পর বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের অগস্টে তিয়ানজিনে তাঁদের শেষ বৈঠকের পর থেকে ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে স্থিতিশীল অগ্রগতি হয়েছে, দুই নেতা তা স্বাগত জানিয়েছেন। উভয় পক্ষই সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার বিষয়ে জোর দিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মতপার্থক্য যেন বিবাদে পরিণত না হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক পরিচালিত হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সংবেদনশীলতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের তিনটি নীতির ভিত্তিতে।
বৈঠকে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সীমান্ত সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও বোঝাপড়াগুলি উভয় পক্ষকে মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই নেতা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এবং দুই দেশের সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও দুই দেশের জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সামনে রেখে সীমান্ত সমস্যার একটি ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত ও পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানের বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অগ্রগতিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। সাংস্কৃতিক বিনিময়, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং দুই দেশের মধ্যে মানুষের যাতায়াত আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন দুই নেতা।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কাঠামোগত বাণিজ্য ঘাটতি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল সংক্রান্ত সমস্যাসহ একে অপরের উদ্বেগের বিষয়গুলি সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তাঁরা। পাশাপাশি অর্থবহ ও পূর্বানুমানযোগ্য বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের অভিন্ন ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করার বিষয়েও দুই নেতা সম্মত হয়েছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত ও চিনের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার উপর জোর দেওয়া হয়।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বে চিনের সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদি শি জিনপিংকে ধন্যবাদ জানান এবং ২০২৬ সালের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন সফল করার ক্ষেত্রে চিনের অবদানের প্রশংসা করেন।
বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল-সহ দুই দেশের অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের মঞ্চে শি জিনপিং এবং অন্যান্য ব্রিকস সদস্য দেশের নেতাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। অনুষ্ঠানের পটভূমিতে ছিল রামেশ্বরমের ঐতিহাসিক রামনাথস্বামী মন্দিরের প্রতিকৃতি। অনুষ্ঠানের সময় মন্দিরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে শি জিনপিংকে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করতেও দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে।
গত ৩১ অগস্ট কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের সময়ও দুই নেতার সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়েছিল। এর আগে ২০২৫ সালের অগস্টে তিয়ানজিনে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের বৈঠক হয়।
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকেই ভারত ও চিনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য শর্ত হিসেবে বারবার তুলে ধরেছে নয়াদিল্লি।



















