আগরতলা, ১০ সেপ্টেম্বর : আসন্ন ত্রিপুরা ভিলেজ কমিটি (ভিসি) নির্বাচন ২০২৬-কে ঘিরে বড়সড় সাফল্যের দাবি করল তিপ্রা মথা পার্টি। রাজ্যের মোট ৪,৫৯৭টি ভিলেজ কমিটি আসনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১,১৪৮টি আসনে তিপরা মথার প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। স্ক্রুটিনি পর্বের পর দলভিত্তিক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত আসনের হিসেবের ভিত্তিতেই এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
দলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোট আসনের প্রায় ২৫ শতাংশেই তিপরা মথার প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। খোয়াই, সিপাহীজলা ও পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় তিপ্রা মথার প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
খোয়াই জেলায় তিপরা মথার প্রার্থীরা মোট ৩১৮টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে পদ্মবিলে ১০৪টি, তুলাশিখরে ৮২টি, মুঙ্গিয়াকামিতে ৬৭টি এবং কল্যাণপুরে ৩৭টি আসন রয়েছে।
সিপাহীজলা জেলায় তিপরা মথার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের সংখ্যা ২৬৩টি। এর মধ্যে শুধু জম্পুইজালাতেই ২১২টি এবং চরিলামে ৩৫টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যদিকে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় তিপরা মথার প্রার্থীরা মোট ৩৯১টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে হেজামারায় ১৪৯টি, বেলবাড়িতে ১০৯টি, মান্দাইয়ে ৯১টি এবং লেফুঙ্গায় ৮০টি আসন রয়েছে।
এছাড়াও গোমতী, ধলাই, দক্ষিণ ত্রিপুরা-সহ রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও তিপ্রা মথার প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। ব্লকভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ২১২টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় জম্পুইজালায়। এরপর হেজামারা ১৪৯ এবং পদ্মবিল ১০৪ আসন নিয়ে রয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত আসনগুলির মধ্যে মোট ১,১৭৯টি আসনে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকছে না। এর মধ্যে বিজেপির দখলে রয়েছে ৩১টি আসন এবং বাকি ১,১৪৮টি আসনে তিপ্রা মথার প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার ড. প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে। এই প্রক্রিয়া আরও দুই দিন চলবে এবং ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রার্থীরা তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন।
তিনি জানান, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সমস্ত প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করা হবে। বৈধ কোনও প্রার্থী ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার আগে তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির রুল ২৮ অনুযায়ী এরপর রিটার্নিং অফিসার ‘লিস্ট অব কনটেস্টিং ক্যান্ডিডেটস’ অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা ফর্ম-৭-এ প্রকাশ করবেন। সেই তালিকা সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে টাঙানোর পাশাপাশি রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছেও পাঠানো হবে।
ড. চক্রবর্তী আরও জানান, আগের বছরগুলির মতো এবারও ভিলেজ কমিটি নির্বাচন ব্যালট পেপারের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। তাই ফর্ম-৭-এর ভিত্তিতে প্রস্তুত করা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী ব্যালট পেপার ছাপানো হবে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর রাজ্যে ভিলেজ কমিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তার আগে বিপুল সংখ্যক আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় তিপ্রা মথার নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রাথমিকভাবে বড় সুবিধা তৈরি করেছে। তবে ১১ সেপ্টেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্তভাবে কত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে, তা স্পষ্ট হবে।



















