তিরুচি, ৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): কাবেরী বদ্বীপের সেচের জন্য মেট্টুর বাঁধ থেকে ছাড়া জল তামিলনাড়ুর তিরুচি জেলার মুক্কোম্বুর আপার অ্যানিকাটে পৌঁছেছে। তবে জলের প্রবাহ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় কৃষকদের সেচের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় গত ১ সেপ্টেম্বর বদ্বীপের জেলাগুলিতে চাষাবাদের জন্য মেট্টুর জলাধার থেকে ৭,০০০ কিউসেক জল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু শুক্রবার সকালে আপার অ্যানিকাটে পৌঁছনোর সময় সেই প্রবাহ কমে দাঁড়ায় মাত্র প্রায় ১,৫০০ কিউসেকে।
এ বছর মেট্টুর জলাধারে পর্যাপ্ত জল না থাকায় জল ছাড়তে দেরি হয়। এর ফলে কাবেরী বদ্বীপের কয়েকটি এলাকায় কুরুভাই ধানের চাষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে জলাধারের জলস্তর ৯২ ফুটে পৌঁছনোর পর জল ছাড়া হয়। সেই সময় জলাধারে জলের প্রবেশের হার ছিল ৮,৪৫৬ কিউসেক।
বৃহস্পতিবার জল করুর জেলার মায়ানুর ব্যারাজে পৌঁছয়। সেখানে প্রথমে প্রবাহ ছিল ২,৭৩৭ কিউসেক, পরে তা বেড়ে ৪,০৮১ কিউসেকে পৌঁছয়। এরপর মায়ানুর থেকে আপার অ্যানিকাটের দিকে প্রায় ২,০৫০ কিউসেক জল ছাড়া হয়।
শুক্রবার সকাল ৬টা নাগাদ জল মুক্কোম্বুতে পৌঁছয়। আধিকারিকরা জানান, ব্যারাজে আগে থেকেই প্রায় ৭৭৭ কিউসেক জল মজুত ছিল, যা পানীয় জলের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা হচ্ছিল। তবে মায়ানুর থেকে ছাড়া ২,০৫০ কিউসেকের মধ্যে মাত্র প্রায় ১,৫০০ কিউসেক আপার অ্যানিকাটে পৌঁছেছে।
প্রবাহ ধীরে ধীরে বাড়বে বলে আশা করে আধিকারিকরা আপার অ্যানিকাট থেকে পাওয়া ১,৫০০ কিউসেক জল কাবেরী নদী দিয়ে গ্র্যান্ড অ্যানিকাট বা কল্লানাইয়ের দিকে ছেড়ে দেন। শনিবারের মধ্যে জল কল্লানাইয়ে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে এবং রবিবার থেকে সেচ ব্যবস্থায় জল ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
তবে সেচ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বদ্বীপের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে কার্যকরভাবে জল পৌঁছে দিতে বর্তমান প্রবাহের তুলনায় অনেক বেশি জল প্রয়োজন। তাঁদের মতে, সেচ ব্যবস্থা যথাযথভাবে চালু রাখতে ১৬,০০০ কিউসেকের বেশি প্রবাহ দরকার।
বর্তমান প্রবাহে মূল নদীখাতেই অধিকাংশ জল সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। ফলে শাখা নদী ও কৃষিজমিতে জল পৌঁছে দেওয়া সেচ খালগুলিতে পর্যাপ্ত জল নাও পৌঁছতে পারে। ইতিমধ্যেই কৃষকরা সেচ খালে পর্যাপ্ত জল ছাড়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিনে জলপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লে ফসলের জন্য জলের অপেক্ষায় থাকা কৃষকদের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বড় কোনও স্বস্তি মিলবে না।
আইএএনএস।



















