কলকাতা, ৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): আসাম ও মনিপুরে পৃথক গোয়েন্দা-ভিত্তিক যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। আসাম রাইফেলসের নেতৃত্বে ভারতীয় সেনার স্পিয়ার কোর, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) এবং রাজ্য পুলিশের সমন্বয়ে শুক্রবার এই অভিযানগুলি চালানো হয়।
মনিপুরের জিরিবাম এবং আসামের শ্রীভূমি জেলায় পরিচালিত অভিযানে মোট ১০.৮৯১ কেজি ব্রাউন সুগার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা। এছাড়া প্রায় ১৪ হাজার ইয়াবা/মেথামফেটামিন ট্যাবলেট উদ্ধার হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ২.৫ কোটি টাকা। এই ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্পিয়ার কোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ জানিয়েছে, আন্তঃসংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে এই অভিযানগুলি সফল হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাদক পাচারের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া, অবৈধ পাচারের রুট বন্ধ করা এবং মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করাই নিরাপত্তা বাহিনীর লক্ষ্য।
অন্যদিকে, মনিপুরের ইম্ফল পূর্ব জেলায় আসাম রাইফেলস ও মনিপুর পুলিশের পৃথক গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর কেইশামপাত ও চারাংপাত এলাকায় চালানো ফলো-আপ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠন UNLF (K)-এর তিন সক্রিয় ক্যাডারকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মনিপুরে অবৈধ অস্ত্র ও তোলাবাজির চক্র ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে চলা জাতিগত হিংসায় এখনও পর্যন্ত ৩০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য পুলিশের সহায়তায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে আসাম রাইফেলস।
একজন শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকের মতে, মনিপুরে অতীতে কাউন্টার ইনসার্জেন্সি ও কাউন্টার টেররিজম অভিযানে বড় ধাক্কা খাওয়া কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন বর্তমানে তোলাবাজি ও নিয়োগের মাধ্যমে ফের সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি সীমান্তপথে মাদক পাচার থেকেও তাদের অর্থ জোগান আসছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নিরাপত্তা আধিকারিকরা জানান, ব্রাউন সুগার ও ইয়াবার মতো মাদক মূলত মিয়ানমার থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঢোকে। মিয়ানমারে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের শিবির রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্রের সঙ্গে জঙ্গি কার্যকলাপের যোগসূত্র থাকায় এই চক্রগুলি ভেঙে দেওয়াকে মনিপুরে শান্তি ফেরানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেন্দ্রের ‘নেশামুক্ত ভারত অভিযান’-এর আওতায় মাদক পাচারপ্রবণ রাজ্যগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, মাদক পাচারকারীরা ভালো আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বহু যুবককে এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত করছে। তাই মূল পাচার নেটওয়ার্কগুলিকে চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে।
আইএএনএস।
























