অযোধ্যা, ৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): রাম মন্দির ট্রাস্টের নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাহী আধিকারিক (সিইও) এয়ার মার্শাল (অবসরপ্রাপ্ত) জিতেন্দ্র মিশ্র শুক্রবার ভক্ত ও সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর ওপর আস্থা রাখার পাশাপাশি আশীর্বাদ চেয়েছেন। রাম মন্দির কমপ্লেক্সের প্রশাসন ও উন্নয়নের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি বর্তমানে গোটা ব্যবস্থাটি বোঝার চেষ্টা করছেন বলে জানান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মিশ্র বলেন, তিনি সবেমাত্র দায়িত্ব নিয়ে অযোধ্যায় এসেছেন এবং বর্তমানে গোটা ব্যবস্থাটি বোঝার চেষ্টা করছেন। ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেওয়ার পর ট্রাস্টের কাছ থেকে নির্দেশনা ও পরামর্শ নিয়ে দলের সহযোগিতায় কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।
মিশ্র বলেন, “আমি এখানে সবেমাত্র এসেছি এবং বর্তমানে পুরো ব্যবস্থাটি বোঝার চেষ্টা করছি। গতকালও বলেছি, বিষয়গুলি বোঝার পর ট্রাস্টের কাছ থেকে নির্দেশনা নেব এবং তাঁদের নির্দেশ মেনে আমাদের দলের সহযোগিতায় এগিয়ে যাব।”
তিনি জানান, বিস্তারিত পরিকল্পনা ও কৌশল প্রস্তুত করার পর তা সামনে আনা হবে। এর জন্য সাধারণ মানুষের কাছে কিছুটা সময়, ধৈর্য ও সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
মিশ্র বলেন, “দয়া করে আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের আপনাদের এবং রামভক্তদের আশীর্বাদ প্রয়োজন। আপনাদের আশীর্বাদ ও আস্থা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। আমাকে কিছুটা সময় দিন।”
তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই একাধিক বৈঠক হয়েছে, মন্দির পরিদর্শন করেছেন এবং ট্রাস্টের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। পরিকল্পনা তৈরির পাশাপাশি তার বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এর ফলাফল দৃশ্যমান হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
গত ২ সেপ্টেম্বর ৫ হাজারেরও বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসনিক পদে জিতেন্দ্র মিশ্রকে বেছে নেওয়া হয়। রাম মন্দির ট্রাস্টের প্রথম সিইও হিসেবে তাঁর নিয়োগ মন্দির কমপ্লেক্সের প্রশাসন ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
দীর্ঘ ৩৮ বছরেরও বেশি সময় ভারতীয় বায়ুসেনায় কাজ করেছেন মিশ্র। অবসর নেওয়ার আগে তিনি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিম এয়ার কমান্ডের এয়ার অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতীয় বায়ুসেনার ফাইটার স্ট্রিমে কমিশন পান তিনি। ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি, এয়ার ফোর্স অ্যাকাডেমি এবং এয়ার ফোর্স টেস্ট পাইলটস স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র তিনি।
কার্গিল যুদ্ধের সময় যুদ্ধবিমানে লেজার-গাইডেড বোমা ব্যবহারের কার্যকরীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মিশ্রের। পরবর্তীতে ‘অপারেশন সফেদ সাগর’-এ টাইগার হিল ও মুন্তো ধালো-সহ একাধিক কৌশলগত লক্ষ্যে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
সামরিক জীবনে অসামান্য অবদানের জন্য একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। ২০২৫ সালের স্বাধীনতা দিবসে ‘সর্বোত্তম যুদ্ধ সেবা পদক’ পান। এর আগে ২০২৪ সালে ‘অতি বিশিষ্ট সেবা পদক’ এবং ২০১৩ সালে ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ লাভ করেন জিতেন্দ্র মিশ্র।
সামরিক জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রাম মন্দির ট্রাস্টের প্রশাসনিক নেতৃত্বে তাঁর নতুন দায়িত্বকে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



















