নয়াদিল্লি, ৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে মাঝ আকাশে উচ্চতা ওঠানামার ঘটনার পর বিমানের পাইলট-ইন-কমান্ডের শরীরে সাইকোঅ্যাকটিভ বা মনঃপ্রভাবক পদার্থের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ায় বিষয়টিকে গুরুতর উদ্বেগের বলে উল্লেখ করেছে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো। শুক্রবার প্রকাশিত প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার ফল সামনে আসার পর অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন-কে সুপারিশ করেছে এএআইবি। একই সঙ্গে বিমানের প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য দিক নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত এখনও চলছে বলে জানানো হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, দিল্লিতে অবতরণের পর দুই পাইলটেরই পোস্ট-ফ্লাইট মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের ব্রেথালাইজার পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক ছিল। তবে সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থ শনাক্তকরণ পরীক্ষায় পাইলট-ইন-কমান্ডের নমুনা ‘নন-নেগেটিভ’ আসে। অন্যদিকে কো-পাইলটের নমুনা নেগেটিভ ছিল।
এএআইবি জানিয়েছে, প্রথম পরীক্ষায় পাইলট-ইন-কমান্ডের নমুনা নন-নেগেটিভ আসার পর দুই পাইলটের রক্তের নমুনা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য প্যাথলজি ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। সেখানেও পাইলট-ইন-কমান্ডের নমুনা নন-নেগেটিভ পাওয়া যায়। কো-পাইলটের নমুনা দুই পরীক্ষাতেই নেগেটিভ ছিল।
এদিকে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। ঘটনার পর সংস্থাটি তাদের সমস্ত পাইলটের স্বেচ্ছামূলক পরীক্ষা শুরু করেছে। এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাত্রী ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নিরাপত্তা, কর্মক্ষমতার উপযুক্ততা বা নিয়ন্ত্রক বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংস্থার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে।
তবে এএআইবি-এর প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ফুকেটে বিমানের প্রি-ফ্লাইট পরিদর্শনের সময় কোনও ত্রুটি ধরা পড়েনি। শুধুমাত্র আগে থেকেই কার্যকর থাকা একটি এমইএল MEL আইটেম ছিল। দুই পাইলটও তাঁদের ওয়াক-অ্যারাউন্ড পরিদর্শনের সময় কোনও অসঙ্গতির কথা জানাননি।
এআই-২৩৭৯ হিসেবে পরিচালিত এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটিতে ওই সময় মোট ১৪৫ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৩৭ জন যাত্রী, ছয়জন কেবিন ক্রু এবং দুইজন পাইলট ছিলেন।
রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্য আহত হন। বিমানের মূল ক্ষতি হয় ওভারহেড স্টোরেজ বিন এবং সিলিং প্যানেলে।
গত ৪ আগস্ট ওড়িশার আকাশসীমার উপর দিয়ে ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় ক্রুজিংয়ের সময় বিমানটির তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেমই বিকল হয়ে যায়। নির্ধারিত উচ্চতা থেকে বিমানটি প্রথমে ৩৭২ ফুট উপরে উঠে যায়, এরপর ২৯২ ফুট নিচে নেমে যায়। এই আকস্মিক উচ্চতা পরিবর্তনের ঘটনাকেই ‘অল্টিটিউড আপসেট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এএআইবি জানিয়েছে, ঘটনার প্রযুক্তিগত এবং অন্যান্য সব দিক খতিয়ে দেখে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে।



















