নয়াদিল্লি, ৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): যন্তর মন্তরে ছাত্রদের আন্দোলনের পর বিজেপি ‘ব্যাকফুটে’ চলে গিয়েছে বলে দাবি করলেন সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। তাঁর দাবি, আন্দোলনের প্রতীকী সাফল্য এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে, যা ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে ইতিবাচক হবে।
শুক্রবার সিপিআই(এম) পলিটব্যুরোর বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বেবি বলেন, যন্তর মন্তরে ছাত্রদের আন্দোলনের সাফল্যের কারণে বিজেপি বড় ধাক্কা খেয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার সম্মত হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। কিন্তু পরে সরকার সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে বলে অভিযোগ তাঁর।
বেবি বলেন, এরপর ছাত্র সংগঠনগুলি ৫ সেপ্টেম্বর ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেয়। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় এবং বিভিন্ন রাজ্যে ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহারের বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চায়।
পরে সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন রাজ্যে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিলের নির্দেশ দিলে ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয় সিজেপি। এই ঘটনাকেই বিজেপির ‘পিছিয়ে পড়ার’ প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন বেবি।
তিনি আরও বলেন, বিহারের বাঁকিপুরে বিজেপির পরাজয়ও দলের জন্য বড় ধাক্কা। এই আসনটি আগে বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন প্রতিনিধিত্ব করতেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বেবির দাবি, “মানুষ বিজেপি ও কংগ্রেস থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আরএসএসের ফ্যাসিবাদী কৌশল কাজ করবে না। ছাত্র ও যুবসমাজ ঘোষণা করেছে যে তারা ভয় পায় না। ফলে দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।”
এই নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিপিআই(এম) নেতা। তিনি এই পরিসংখ্যানকে ‘কারসাজি করা হিসাব’ বলে দাবি করেন।
বেবির অভিযোগ, জিডিপি বৃদ্ধির হার যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রাক্তন অর্থসচিবসহ বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ প্রশ্ন তুলেছেন। রঘুরাম রাজনের মতো অর্থনীতিবিদরাও এই পরিসংখ্যানের ‘ফাঁপা দিক’ তুলে ধরেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, পরিসংখ্যান দিয়ে অনেক কিছুই করা সম্ভব, কিন্তু কীভাবে সেই পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হচ্ছে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অভিযোগ, জিডিপি পরিসংখ্যানের মাধ্যমে যে ‘অসাধারণ বৃদ্ধির হার’ দেখানো হচ্ছে, তা আসলে কারসাজি করা হিসাব।
এদিকে, সিপিআই(এম) পলিটব্যুরোর বৈঠক নিয়মিত দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বলে জানান বেবি। তাঁর কথায়, গত সংসদ অধিবেশন কার্যত ভেস্তে গিয়েছিল। বিরোধীরা যে বিষয়গুলি সংসদে তুলতে চেয়েছিল, শাসকদল সেগুলি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়নি।
বিশেষ অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং শাসকদলের নির্দিষ্ট কিছু এজেন্ডা থাকতে পারে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। পলিটব্যুরোর বৈঠকে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলায় দলের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানান সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক।



















