কাঠমান্ডু, ৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস) : নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ১০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিলেন মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা এনভিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেনসেন হুয়াং। নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোতেকোশি নদীর অববাহিকায় সাম্প্রতিক বিধ্বংসী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য এই অর্থ প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে।
এক ভিডিও বার্তায় হুয়াংকে ধন্যবাদ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাঁর এই অনুদানের ফলে প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে মোট অনুদানের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন নেপালি রুপি, অর্থাৎ প্রায় ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে।
ওয়াগলে বলেন, “নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে ১০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার জন্য জেনসেন হুয়াংকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁর এই বড়সড় অনুদান অন্যদেরও এই মহৎ কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করি।”
এদিকে, নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাসুয়ার বিধ্বংসী বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,২৫৯ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এখনও ৫,০৫৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
গত সপ্তাহে ভয়াবহ বন্যার পর থেকেই নেপাল বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে ত্রাণ ও অন্যান্য সহায়তা পাচ্ছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে জানান, বন্যার প্রথম দিন থেকেই প্রতিবেশী ভারত বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এখনও পর্যন্ত ভারত পাঁচ দফায় মোট ৭৪ টন ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী নেপালে পাঠিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজে বিশেষজ্ঞ দলও মোতায়েন করা হয়েছে।
চীন নেপালকে ৩০ কোটি নেপালি রুপি এবং ৫০ টন ত্রাণসামগ্রী দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৩০টি বেইলি ব্রিজ দেওয়ার জন্যও চীনের কাছে অনুরোধ করেছে নেপাল সরকার।
পাকিস্তান ৮৬ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠাচ্ছে। শ্রীলঙ্কা ১ মিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং বাংলাদেশও ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৫ লক্ষ ডলার, অস্ট্রেলিয়া ১ মিলিয়ন ডলার নগদ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া বিশেষজ্ঞ ও ড্রোন অপারেটরসহ একটি দলও নেপালে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ইতিমধ্যে ৮৩ টন প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী দিয়েছে এবং সর্বোচ্চ ১০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কাতারও ৪০ টন ত্রাণসামগ্রী দিয়েছে।
যুক্তরাজ্য ৫ মিলিয়ন পাউন্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২ মিলিয়ন ইউরো, সুইজারল্যান্ড ১ মিলিয়ন ডলার, ডেনমার্ক ৩.৫ মিলিয়ন ড্যানিশ ক্রোনার, জার্মানি ২ মিলিয়ন ডলার এবং আয়ারল্যান্ড ৫ লক্ষ ইউরো সহায়তার ঘোষণা করেছে। এছাড়া চেক প্রজাতন্ত্র ২৫ লক্ষ চেক ক্রোনার এবং নরওয়ে ১২.৭ মিলিয়ন নরওয়েজিয়ান ক্রোনার সহায়তার কথা জানিয়েছে।
ফ্রান্স ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ২০০টি পরিবারের জন্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী দিয়েছে। লুক্সেমবার্গ ও লাটভিয়াও ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করেছে।
আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিও নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংক ১৬৭ মিলিয়ন ডলার স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান এবং ১.৫ লক্ষ ডলার কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেছে।
……



















