কলকাতা, ২৮ আগস্ট (আইএএনএস): কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির ছাদ থেকে বেআইনি বিলবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার ঘটনায় ১৩ জন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। একইসঙ্গে এই ঘটনায় তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর একাধিক জামিন অযোগ্য ধারা রয়েছে বলে শুক্রবার সকালে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
শেক্সপিয়র সরণি থানায় দায়ের হওয়া তিনটি মামলার মধ্যে একটি ওই থানার এক পুলিশ আধিকারিকের অভিযোগের ভিত্তিতে, দ্বিতীয়টি পার্ক স্ট্রিট থানার এক পুলিশকর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে এবং তৃতীয়টি কলকাতা পুরনিগমের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হয়েছে।
শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ আধিকারিক এবং কলকাতা পুরনিগমের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া দুটি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দলের নেতা হুমায়ুন কবীর ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে। অন্যদিকে, পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ আধিকারিকের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া মামলাটি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটের ৯ নম্বর বাড়ির ছাদে থাকা বেআইনি হোর্ডিং সরানোর জন্য কলকাতা পুরনিগম লিখিতভাবে পুলিশের সাহায্য চায়। সেই অনুযায়ী শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ আধিকারিকরা পুরনিগমের কর্মীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছন।
পুলিশের অভিযোগ, পুলিশ ও পুরনিগমের কর্মীরা সেখানে পৌঁছতেই মামলায় নাম থাকা ব্যক্তিদের-সহ বহু তৃণমূল সমর্থক জড়ো হন এবং তাঁদের বাড়ির ভিতরে ঢুকতে বাধা দেন। সরকারি নির্দেশ কার্যকর করতেও বাধা দেওয়া হয় বলে পুলিশের দাবি।
ঘটনায় পুলিশ আধিকারিক ও পুরকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে। এমনকি কর্তব্যরত এক মহিলা পুলিশকর্মীকে মারধর এবং তাঁর শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ করেছে পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বেআইনি বিলবোর্ড সরাতে কলকাতা পুরনিগমের আধিকারিকরা কলকাতা পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের সামনে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং তাঁদের সহযোগীরা পুরকর্মী ও পুলিশকর্মীদের পথ আটকে দেন বলে অভিযোগ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুরনিগমের বিলবোর্ড সরানোর নির্দেশের আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নির্দেশের কপির সঙ্গে বিলবোর্ডের ছবি সংযুক্ত না থাকায় সেটি বৈধ নয়। এরপর পুরনিগমের আধিকারিকরা সংশোধিত নির্দেশ নিয়ে ফের ঘটনাস্থলে আসেন।
পরবর্তীতে পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে। পুরকর্মীরা পুলিশি নিরাপত্তায় সিঁড়ি দিয়ে ভবনের ছাদে উঠতে গেলে তৃণমূল সমর্থকরা মানবপ্রাচীর তৈরি করে তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মহিলা তৃণমূল কর্মীও ছিলেন বলে জানা গেছে।
এরপর পুলিশ ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ পথ পরিষ্কার করে পুরনিগমের আধিকারিকদের ছাদে পৌঁছতে সাহায্য করে। পরে বেআইনি বিলবোর্ডটি ভেঙে সরিয়ে ফেলা হয়।



















