চণ্ডীগড়, ২৭ আগস্ট (আইএএনএস): মহার্ঘ ভাতা (ডিএ)-র বকেয়া এবং দীর্ঘদিনের অন্যান্য দাবিদাওয়া পূরণের দাবিতে বৃহস্পতিবার একদিনের গণছুটিতে গেলেন পাঞ্জাবের প্রায় সব দপ্তর, বোর্ড ও কর্পোরেশনের তিন লক্ষেরও বেশি সরকারি কর্মী। এর ফলে রাজ্যজুড়ে সরকারি পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। কর্মীদের সঙ্গে প্রায় চার লক্ষ পেনশনভোগীও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।
‘মহা হরতাল’-এর অংশ হিসেবে জেলা, মহকুমা ও ব্লক স্তরের সরকারি দপ্তরগুলিতে দিনভর অবস্থান-বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা। সরকারি হাসপাতাল, ডিসপেনসারি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে। তবে বাজার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি বাস পরিষেবা এবং জরুরি পরিষেবাকে ধর্মঘটের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
কর্মী সংগঠনগুলির দাবি, তাঁদের মোট ২০,১৬১ কোটি টাকার ডিএ বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সাল থেকে ৬,০০০ কোটি টাকা এবং তারও আগে থেকে ১৪,১৬১ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বর্তমানে কর্মীরা মূল বেতনের ৪২ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। কর্মীদের দাবি, তা বেড়ে ৫৮ শতাংশ হওয়া উচিত।
ধর্মঘটের একদিন আগে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমা চণ্ডীগড়ে একাধিক কর্মী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেন। কর্মীদের দাবি নিয়ে গঠিত মন্ত্রিসভার উপ-কমিটির প্রধান চিমা বৈঠকে বলেন, “ভগবন্ত মান সরকার আপনাদের সমস্যার প্রতি গভীরভাবে সহানুভূতিশীল। আপনাদের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ দাবির ক্ষেত্রেই পদক্ষেপ ইতিমধ্যে প্রক্রিয়াধীন।”
তিনি পরিবহণ, শিক্ষা, পশুপালন এবং অর্থ দপ্তরকে কর্মী সংগঠনগুলির ন্যায্য দাবিগুলি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
ধর্মঘটের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান বৃহস্পতিবার জালন্ধরের পাঞ্জাব আর্মড পুলিশ (পিএপি) কমপ্লেক্সে কর্মী সংগঠনগুলির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে চিমা জানিয়েছিলেন, পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে কর্মীদের পে-কমিশন সংক্রান্ত ১৪,১৯১ কোটি টাকার দায় উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে বর্তমান সরকার। হাইকোর্ট অনুমোদিত ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনার আওতায় ইতিমধ্যে ৬,০০০ কোটিরও বেশি টাকা মেটানো হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে বৈধ সমস্ত বকেয়া মেটাতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
চিমা আরও বলেন, কর্মীদের পে-কমিশনের রিপোর্টটি ২০১৬ সালে শিরোমণি অকালি দল-বিজেপি সরকারের আমলে তৈরি হলেও বহু বছর তা কার্যকর করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালের জুলাইয়ে রিপোর্টটি কার্যকর করা হয়। এর ফলে ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত ডিএ বকেয়া স্থগিত থাকায় ১৪,১৯১ কোটি টাকার দায় তৈরি হয়।
গত ৩ আগস্ট পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে ১৫ দিনের মধ্যে বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দেওয়ার পরই এই বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। পাশাপাশি, বকেয়া পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত বড় আকারের বিজ্ঞাপন প্রচারে রাজ্য সরকারকে নিষেধ করা হয়।
হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, সমস্ত বকেয়া মেটানো না হওয়া পর্যন্ত প্রিন্ট বা সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় আকারের বিজ্ঞাপন প্রচারের মতো অনুৎপাদনশীল খরচ করা উচিত নয়, কারণ এই ধরনের ব্যয় রাজ্য সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য বকেয়া না দেওয়ার বিষয়টিকে ন্যায্যতা দিতে পারে না।
আইএএনএস



















