অমরাবতী, ২৫ আগস্ট (আইএএনএস): অন্ধ্রপ্রদেশের তীর্থশহর শ্রীশৈলমে একটি বিশ্রামাগারের ঘর থেকে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে আর্থিক সমস্যার কারণে তাঁরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃতদের মধ্যে দু’জন পুরুষ এবং তিনজন মহিলা। শ্রী মল্লিকার্জুন স্বামী মন্দিরে আসা ভক্তদের জন্য থাকা ভাড্ডেরা সাতারামের একটি ঘর থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার করা হয়। দু’জন পুরুষকে ঘরের পাখার সঙ্গে এবং তিনজন মহিলাকে শৌচাগারে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশের অনুমান, প্রায় তিন দিন আগেই তাঁরা চরম পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। মঙ্গলবার ঘরটি থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিশ্রামাগারের কর্মীরা পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পাঁচজনের দেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে আত্মাকুরের ডিএসপি রামনজানেয়ুলু জানান, পরিবারটি শ্রী সত্যসাই জেলার বাট্টালাপল্লির বাসিন্দা। মৃতদের পরিচয়— পাল্লাপু সুধাকর (৫০), গোগুলা আদিলক্ষ্মী (৩৬), মল্লেশ্বরী (৪৫), শ্রীদেবী (৩৩) এবং মণিকণ্ঠ (১৫)। মণিকণ্ঠ ছিলেন মল্লেশ্বরীর ছেলে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সুধাকর, তাঁর তিন বোন এবং এক ভাগ্নে গত ২৮ জুলাই অটোরিকশায় করে শ্রীশৈলমে এসেছিলেন। তাঁরা ভাড্ডেরা সাতারামের ১১ নম্বর ঘরে প্রায় এক মাস ধরে ছিলেন। ঘরটির দৈনিক ভাড়া ছিল ২৯ টাকা। কর্মীরা তাঁদের ঘর খালি করতে বললে তাঁরা আরও কিছুদিন থাকার জন্য সময় চেয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন, তাঁরা শারীরিকভাবে ভালো বোধ করছেন না এবং মন্দিরে মানত পূরণ করতে চান।
পুলিশের মতে, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সমস্যায় ভুগছিল। মৃত দুই মহিলা বিবাহবিচ্ছিন্ন ছিলেন। অবিবাহিত সুধাকর তাঁর বোনদের দেখাশোনা করতেন বলেও জানা গিয়েছে।
পাঁচজনের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য শ্রীশৈলমের সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। ডিএসপি অঞ্জনেয়ুলু জানিয়েছেন, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



















