অমরাবতী, ২৩ আগস্ট (আইএএনএস): অন্ধ্রপ্রদেশে সরকারি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়ছে বলে চন্দ্রবাবু নাইডু নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের দাবিকে খারিজ করে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (ওয়াইএসআরসিপি) সভাপতি ওয়াই.এস. জগন মোহন রেড্ডি অভিযোগ করলেন, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রসারকে সাহায্য করা হচ্ছে।
রবিবার সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে জগন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ইউনিফাইড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাস (ইউডিআইএসই+) তথ্য তুলে ধরে বলেন, অন্ধ্রপ্রদেশে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা সামনে এসেছে।
তাঁর দাবি, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জগনের অভিযোগ, রাজ্য সরকার বারবার দাবি করছে যে ১.১০ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়া বেসরকারি স্কুল ছেড়ে সরকারি স্কুলে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু সরকারি পরিসংখ্যান সেই দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জগন বলেন, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে সরকারি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ছিল ৪০,৫০,১১৬। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪,৯৩,৪৫০-এ। অর্থাৎ দুই বছরে পড়ুয়ার সংখ্যা কমেছে ৫,৫৬,৬৬৬।
তিনি আরও জানান, একই সময়ে সরকারি স্কুলের সংখ্যা ৪৫,০০০ থেকে কমে ৪৪,২২২ হয়েছে। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের সংখ্যাও ৯৯১ থেকে কমে ৭৯৭ হয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনাধীন স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ২০২৩-২৪ সালের ৪৫,৫৩,৩৮০ থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে ৪৮,৪০,২৯৬ হয়েছে।
জগনের দাবি, সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কমার পাশাপাশি বেসরকারি স্কুলে সংখ্যা বাড়ার ঘটনা রাজ্যের সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার পরিস্থিতি স্পষ্ট করে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের দাবি সরকারি পরিসংখ্যানের সঙ্গে মিলছে না।
অন্ধ্রপ্রদেশের বেসরকারি শিক্ষা ক্ষেত্রের উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে নারায়ণা, শ্রী চৈতন্য, ভাষ্যম, ভিগনান এবং গীতামের নাম উল্লেখ করেন জগন। তাঁর অভিযোগ, চন্দ্রবাবু নাইডু সরকারের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানগুলির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই কারণেই সরকারি শিক্ষা ক্ষেত্রকে দুর্বল করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রসারকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এর ফলে যেসব পড়ুয়ার পরিবার বেসরকারি স্কুলের খরচ বহন করতে পারে না, তাদের কাছে মানসম্মত শিক্ষা ক্রমশ নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
জগন দাবি করেন, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ওয়াইএসআরসিপি সরকারের আমলে শিক্ষাক্ষেত্রে একাধিক সংস্কার ও পরিবর্তনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, সেই সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল সকলের জন্য মানসম্মত শিক্ষাকে সহজলভ্য করা।
তিনি ‘মন বাডি-নাডু নেডু’ প্রকল্পের উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে ৫৬,৭০৩টি সরকারি স্কুল, কল্যাণ হস্টেল এবং জুনিয়র কলেজের পরিকাঠামো উন্নত করা হয়েছিল। আসবাবপত্র, পানীয় জল, শৌচাগার ও শ্রেণিকক্ষের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ১৫,৭১৫টি স্কুল এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ২২,৩৪৪টি স্কুল এই প্রকল্পের আওতায় আসে। ২০২৪ সালের জুনে তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলছিল বলেও তিনি জানান।
এছাড়াও অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া ও শিক্ষকদের প্রি-লোডেড বাইজুস কনটেন্ট-সহ বিনামূল্যে ট্যাব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন জগন। প্রাথমিক স্তর থেকেই ইংরেজিকে শিক্ষার মাধ্যম করা হয় এবং পড়ুয়াদের জন্য দ্বিভাষিক পাঠ্যবই ও অক্সফোর্ড অভিধান সরবরাহ করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারে ষষ্ঠ শ্রেণি ও তার ঊর্ধ্বের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ৬২,০০০ ইন্টারঅ্যাক্টিভ ফ্ল্যাট প্যানেল (আইএফপি) এবং প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয় এমন স্কুলগুলিতে ৪৫,০০০ স্মার্ট টিভি বসানো হয়েছিল বলে জগন দাবি করেন।
ইংরেজি বলার দক্ষতা বাড়াতে তৃতীয় শ্রেণি থেকে টোফেল বিষয় চালু করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে আমেরিকান এডুকেশনাল টেস্টিং সার্ভিসেস (ইটিএস)-এর সঙ্গে সমঝোতা করা হয়েছিল বলে জানান জগন।
এছাড়া পড়ুয়াদের আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তুলতে ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালরিয়েট (আইবি) ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষক, স্কুল প্রধান, মণ্ডল এডুকেশন অফিসার (এমইও) এবং অন্যান্য কর্মীদের আইবি পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছিল বলে জানান তিনি।
— আইএএনএস



















