নয়াদিল্লি/মোগাদিশু, ২১ আগস্ট(আইএএনএস) : সোমালিয়ার উপকূলের কাছে জলদস্যুদের হাতে দুই বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ অপহৃত হওয়ার ঘটনায় ২২ জন ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রক (এমইএ) জানিয়েছে, দুই জাহাজে থাকা ২২ জন ভারতীয়ই নিরাপদ রয়েছেন।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, দুটি জাহাজেই বিদেশি দেশের পতাকা রয়েছে। একটি জাহাজে ১৬ জন এবং অন্যটিতে ছয় জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
বিদেশি পতাকাবাহী তেলজাত পণ্য পরিবহণকারী ট্যাঙ্কার এমটি শিবু ১-এ মোট ২০ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন ভারতীয়, একজন সিরীয়, একজন সুদানি এবং একজন ইরাকি নাগরিক। বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের উপকূল থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে গালফ অব এডেনে ছয় জন সশস্ত্র জলদস্যু জাহাজটি দখল করে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে এমভি লুতুফ নামে আরও একটি জাহাজ সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড অঞ্চলের উপকূলের কাছে দখল করা হয়েছে। জাহাজটিতে মোট ১০ জন নাবিক ছিলেন, যাঁদের মধ্যে ছয় জন ভারতীয় নাগরিক।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, দুটি জাহাজেই বিদেশি দেশের পতাকা রয়েছে। মোট ২২ জন ভারতীয় নাগরিক জাহাজ দুটিতে ছিলেন। এখনও পর্যন্ত আমরা যা জানতে পেরেছি, তাঁদের ২২ জনই নিরাপদ রয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতীয় নাবিক ও জাহাজের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভারতীয় মিশনগুলি নিয়মিত জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত মন্ত্রক, সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। প্রয়োজন হলে ভারতীয় নাবিক বা ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলদস্যুবিরোধী নৌবাহিনীও এমটি শিবু ১ অপহরণের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। জাহাজটির গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইইউ নাভাল ফোর্স অপারেশন এটলান্টা।
জানা গেছে, পশ্চিমমুখী যাত্রার সময় জাহাজটি ভিএইচএফ চ্যানেল ১৬-এ বিপদসংকেত পাঠিয়ে জানায়, একটি অনুমোদনহীন নৌযান তার দিকে এগিয়ে আসছে। এরপর ছয় জন সশস্ত্র ব্যক্তি জাহাজটিতে উঠে সেটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং পরে জাহাজটিকে সোমালিয়ার দিকে ঘুরিয়ে দেয় বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলদস্যুবিরোধী বাহিনী।
এলাকায় চলাচলকারী অন্যান্য জাহাজগুলিকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি দেখা গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গালফ অব এডেন ও ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে জলদস্যুদের তৎপরতা দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বড় উদ্বেগের কারণ। এর ফলে জাহাজের বিমা খরচ বেড়েছে এবং নিরাপত্তার কারণে অনেক জাহাজকে সুয়েজ খালের পরিবর্তে দক্ষিণ আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথে চলাচল করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওই অঞ্চলে বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজও মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমালি জলদস্যুদের মূলত মুক্তিপণের বিনিময়ে জাহাজ ও নাবিকদের আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কার্যকলাপে অপহৃত জাহাজ পাহারায় থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির জন্য খাবার, জল, জ্বালানি এবং অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহে উপকূলভিত্তিক নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হয়।























