নয়াদিল্লি, ২০ আগস্ট (আইএএনএস): প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ৮২তম জন্মবার্ষিকীতে বৃহস্পতিবার তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ভারতের উন্নয়নের যাত্রায় রাজীব গান্ধীর অবদানেরও প্রশংসা করেন তিনি।
রাজনাথ সিং তাঁর ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করে লেখেন, “ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শ্রী রাজীব গান্ধীর জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই। ভারতের উন্নয়নের যাত্রায় তাঁরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।”
তবে রাজনাথ সিংয়ের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের ভাষা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ‘তাঁরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা আপত্তি তুলতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দেশের সর্বকনিষ্ঠ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধা জানানোর ক্ষেত্রে এই বার্তায় যথেষ্ট আন্তরিকতা ও সম্মানের প্রতিফলন নেই।
রাজনীতিতে রাজীব গান্ধীর প্রবেশ ভারতীয় রাজনীতিতে প্রজন্মগত পরিবর্তনের সূচনা করেছিল। তাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেস দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ নির্বাচনী জয় পেয়েছিল। তাঁর শাসনকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে।
রাজীব গান্ধীর জন্মবার্ষিকী দেশজুড়ে ‘সদ্ভাবনা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।
এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “তাঁর জন্মবার্ষিকীতে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শ্রী রাজীব গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানাই।”
এদিন সকালে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সংসদীয় দলের নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, কে.সি. বেণুগোপাল-সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা ‘বীর ভূমি’-তে গিয়ে রাজীব গান্ধীর স্মৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশও রাজীব গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজীব গান্ধীর আমলে ভোটদানের ন্যূনতম বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়। পাশাপাশি ১২ জানুয়ারি, স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনকে জাতীয় যুব দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
রমেশ আরও উল্লেখ করেন, ১৯৮৮ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের সময় দেশজুড়ে নবোদয় বিদ্যালয়ের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়। নেহরু যুব কেন্দ্র সংগঠনও দেশের প্রতিটি জেলায় বিস্তৃত করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বেই ভারত তথ্যপ্রযুক্তির যুগে দৃঢ়ভাবে প্রবেশ করে এবং এর ফলে লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।
— আইএএনএস



















