আগরতলা, ১৯ আগস্ট: বিশালগড় ও কাঞ্চনপুর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা দুটি পৃথক অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি বলেন, অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা প্রয়োজন।
বিশালগড় থানার ঘটনা প্রসঙ্গে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, কয়েক মাস আগে সোনামুড়ার এক ব্যক্তি পরিবারের চিকিৎসার খরচ জোগাড়ের জন্য নগদ টাকা এবং পরিবারের মহিলাদের সোনার গয়না নিয়ে এসেছিলেন। অভিযোগ, বিশালগড় থানার পুলিশ ওই সোনা নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে বিষয়টি চুরির ঘটনা হিসেবে সামনে আসে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেও মন্তব্য করেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক।
তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে থাকা ওই পরিবারকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে হয়রানি করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, সহায়তা ও আইন রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশের বিরুদ্ধেই যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিন কাঞ্চনপুর থানার পুলিশের বিরুদ্ধেও ওঠা একটি অভিযোগের প্রসঙ্গ সামনে আনেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর দাবি, এক মহিলা থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে থানার অভ্যন্তরেই তাঁর সঙ্গে শ্লীলতাহানি ও অশালীন আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। ওই মহিলা বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে দুটি ঘটনাতেই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে তিনি কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করতে চাননি। জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, অভিযোগ ওঠা মানেই তা সত্যি—এমনটা ধরে নেওয়া যায় না। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা এবং প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা জরুরি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান তিনি।
একইসঙ্গে রাজ্য পুলিশের একাংশের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কেন ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ উঠছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন সময়ে পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সামনে আসছে। এসব অভিযোগের তদন্ত কতদূর এগিয়েছে এবং তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
পুলিশের মহানির্দেশকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর মতে, পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। কোনও অভিযোগ যাতে তদন্তের অভাবে চাপা না পড়ে, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক। তাঁর প্রশ্ন, বাস্তবে প্রশাসন ও পুলিশ কি এই নীতির ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী কাজ করছে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলে তা রাজ্যের পক্ষে কোনওভাবেই শুভ লক্ষণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে গোটা ত্রিপুরা পুলিশ বাহিনীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর পক্ষপাতী নন বলেও স্পষ্ট করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। পুলিশের অতীত ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ত্রিপুরা পুলিশের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে এবং বাহিনীর প্রতি তাঁর যথেষ্ট সম্মান রয়েছে। কিন্তু পুলিশের একটি অংশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গোটা বাহিনীর ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজ্যের পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনও রাজনৈতিক দলের অন্যায় নির্দেশের কাছে মাথা নত না করে সংবিধান ও আইনের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে পুলিশকে কাজ করতে হবে। পুলিশের কোনও অন্যায় বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে যেন সাধারণ মানুষ আরও আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন না হয়ে পড়েন, সেদিকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে রাজ্যবাসীকেও সতর্ক থাকার আবেদন জানান জিতেন্দ্র চৌধুরী। একইসঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।



















