কলকাতা, ১৬ আগস্ট (আইএএনএস): প্রাক্তন পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রী ও রাজ্য বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মহত্যার ঘটনায় বিজেপি এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশকে দায়ী করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
রবিবার সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে অভিষেক দাবি করেন, মৃত নেতার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আত্মহত্যার নোটে যে বক্তব্য রয়েছে, তা বিজেপি এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশের ‘ভিত্তিহীন অভিযোগকে ক্রমাগত প্রচারের’ ফল।
অভিষেক বলেন, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ চিঠিতে তিনি যে ধারাবাহিক কুৎসা ও অপপ্রচারের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, তা গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, অভিযোগকে বারবার প্রচার করা, মানুষের সুনামকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এবং সত্য প্রতিষ্ঠার আগেই জনমতের আদালতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার রাজনীতির পরিণতি নিয়ে বিজেপি এবং সংবাদমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট অংশের আত্মসমালোচনা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক লড়াই চলবে, কিন্তু একবার একটি জীবন হারিয়ে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় রাজনীতি ও সাংবাদিকতার কিছু সীমারেখা থাকা উচিত বলে যারা বিশ্বাস করেন, তাঁদের সকলের বিবেককে নাড়া দিয়েছে এই ঘটনা।
অভিষেকের পোস্টে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে দীর্ঘদিনের শিক্ষক ও জনসেবক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের সেবায় সততা, মর্যাদা ও সরলতার সঙ্গে কয়েক দশক কাটিয়েছেন আশিস ‘দা’। রামপুরহাট তথা গোটা বীরভূম জেলার কাছে তিনি ছিলেন একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব ও গর্বের মানুষ।
অভিষেক বলেন, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মর্মান্তিক পরিণতিতে পশ্চিমবঙ্গ তার অন্যতম শ্রদ্ধেয় সন্তানকে হারিয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্য, ছাত্রছাত্রী, অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাঁদের এই কঠিন সময়ে শক্তি দেওয়ার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন তিনি।
এদিকে, এক পাতার হাতে লেখা বাংলায় আত্মহত্যার নোটে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, রাজনীতিতে যোগ দেওয়া তাঁর ভুল হয়েছিল। নিজের রাজনৈতিক জীবনে কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
নোটে তিনি লেখেন, ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীনও কোনও দুর্নীতিতে জড়াননি বলে দাবি করেন। রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও অতীতে তা কখনও শত্রুতার পর্যায়ে পৌঁছয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দলের সমস্ত অন্যায় সবসময় মেনে নিতে না পারলেও প্রতিবাদ করতে পারেননি এবং জীবনে কোনও কাজের বিনিময়ে এক পয়সাও নেননি বলে দাবি করেন প্রাক্তন মন্ত্রী।
–আইএএনএস



















