ভালসাদ, ১৬ আগস্ট (আইএএনএস): ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে এক যুবককে নির্জন এলাকায় ডেকে নিয়ে গিয়ে মারধর ও ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে ১৪ হাজার টাকা লুটের অভিযোগে গুজরাটের ভালসাদ জেলার ভাপি তালুকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে ডুংরা থানার পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ১২ আগস্ট সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। ২২ বছর বয়সি অভিযোগকারী একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাঁকে কারওয়াড়ের ভারত পেট্রল পাম্পের কাছে একটি জায়গায় ডেকে পাঠানো হয়।
অভিযোগ, সেখানে পৌঁছনোর পর তিন ব্যক্তি তাঁকে একটি অন্ধকার ও নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে মারধর করার পাশাপাশি ছুরি দেখিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর জোর করে তাঁর কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা নিয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
ঘটনায় ডুংরা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর ৩০৯(৪), ৩০৯(৬), ৩৫১(৩) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ পরিদর্শক বি এন গোহিলের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া তিনজন হল শাহবাজ (১৯), জহির খান (২০) এবং জওহর যাদব (১৯)। শাহবাজ কারওয়াড়ের বাসিন্দা এবং উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগরের মূল বাসিন্দা। জহির খান কারওয়াড়ে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন এবং তাঁর আদি বাড়ি উত্তরপ্রদেশের বলরামপুরে। জওহর যাদব কারওয়াড়ের বাসিন্দা ও পেশায় ছাত্র। তাঁরও আদি বাড়ি সিদ্ধার্থনগরে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারীর কাছ থেকে লুট করা সম্পূর্ণ ১৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
ডেটিং অ্যাপটি মূলত ১৮ বছরের বেশি বয়সি এলজিবিটিকিউ+ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি অবস্থানভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে কাছাকাছি থাকা ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল খুঁজে পাওয়া, চ্যাট করা এবং ছবি, ভিডিও ও ভয়েস মেসেজ আদানপ্রদান করা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ব্যক্তিদের নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে গিয়ে লুট বা তোলাবাজির একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। মে মাসে বেঙ্গালুরু পুলিশ এই ধরনের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছিল। মার্চে নয়ডা পুলিশও ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে মানুষকে ফাঁদে ফেলে অপহরণ ও লুটের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করে। লখনউতেও একই ধরনের একটি চক্রের সন্ধান মিলেছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযানে ডুংরা থানার পিআই বি এন গোহিল, পিএসআই কে আর ছোতালিয়া, এএসআই ভারতভাই ভবানভাই ও কুলদীপসিং কানুভা, কনস্টেবল কিরণসিংহ প্রভাতসিংহ ও মহেন্দ্রসিংহ খানসিংহ-সহ থানার অন্যান্য আধিকারিক ও কর্মীরা অংশ নেন।



















