নয়াদিল্লি, ১৬ আগস্ট (আইএএনএস): জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের সময় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের আচরণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই রবিবার কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল বিজেপি। বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস নেতাদের আচরণ ‘দিমাগি নকশাল’ মানসিকতার প্রতিফলন। একইসঙ্গে এই ঘটনায় কংগ্রেসকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।
শনিবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ইন্দিরা ভবনে কংগ্রেসের অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। সেখানে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং দলের প্রবীণ নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে ও ইশারা করতে দেখা যায়। এরপর দু’জন দলীয় এক কর্মীকে ডেকে কিছু নির্দেশ দেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়। সেই সময় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও প্রবীণ নেতাদের দিকে তাকাতে দেখা যায়।
রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারি বলেন, ‘বন্দে মাতরম’-এর বিরোধিতা একমাত্র ‘দিমাগি নকশাল’ মানসিকতার লোকেরাই করতে পারে। স্বাধীনতা দিবসের দিন সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর ‘বন্দে মাতরম’-এর বিরোধিতা সেই মানসিকতারই প্রতিফলন বলে দাবি করেন তিনি।
কংগ্রেসের অনুষ্ঠানের কিছু ছবি ও স্ক্রিনশট সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে ভাণ্ডারি বলেন, ঘটনার পর দলের কয়েকজন নেতা নিজেদের আচরণের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশের বক্তব্যেরও উল্লেখ করেন। জয়রাম রমেশ দাবি করেছিলেন, গান থামানোর কোনও চেষ্টা হয়নি এবং কংগ্রেস সভাপতি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকায় সোনিয়া গান্ধী তাঁর জন্য একটি চেয়ার আনার কথা বলছিলেন।
বিজেপি মুখপাত্রের অভিযোগ, ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের বিরোধিতা করে কংগ্রেস শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামীদেরই অপমান করেনি, দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং ১৪০ কোটি ভারতবাসীর আবেগকেও আঘাত করেছে।
ভাণ্ডারি সম্প্রতি পাশ হওয়া ‘জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) আইন, ২০২৬’-এর প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর দাবি, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনে বাধা দেওয়াকে এই আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতারা সেই আইন লঙ্ঘন করেছেন এবং ‘প্রান্তিক শক্তিগুলির’ পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিজেপির এই নেতা কংগ্রেসকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তাঁর বক্তব্য, দেশের কোটি কোটি মানুষের আবেগে আঘাত করার জন্য কংগ্রেসের ক্ষমা চাওয়া উচিত, যদি দলের মধ্যে ‘দেশপ্রেমের সামান্যতম অনুভূতিও’ থেকে থাকে।
তবে ভাণ্ডারি দাবি করেন, কংগ্রেস ক্ষমা চাইবে না। তাঁর অভিযোগ, ‘দিমাগি নকশাল’ মানসিকতার মূল হোতা এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক রাহুল গান্ধী। কেরলের কংগ্রেস সরকার সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া এড়িয়ে গিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বিজেপি মুখপাত্র আরও বলেন, এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের অভাবের যে অভিযোগ রয়েছে, তা সত্য। পাশাপাশি জয়রাম রমেশ যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, সেটিও ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেন তিনি।
—আইএএনএস



















